বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

‘আমার মা-বাবার যেন কিছু না হয়’ (ভিডিও)

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৬

নিউজ ডেস্ক: একেই বলে নিয়তির নির্মম পরিহাস। এক মুহূর্তেই পাল্টে গেল পুর্ন আর ফাইজা নামের দুই শিশু জীবনের হিসাব নিকাশ। পরিবারের সাথে হাসি খুশিতে যাদের সময় কাটানোর কথা, তারাই আজ অনাথ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটাচ্ছে। গত ২৬ জানুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তারা তাদের বাবা-মা ও বড় বোনকে হারায়। হাসপাতালে ফুফুর কোলে নিশ্চুপ দুই বছরে শিশু পুর্ন। সে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার শরীরে প্রচুর জর। জরের তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রী। তার হাতে ভেঙে গেছে। পুরো হাতেই ব্যান্ডেজ লাগানো। নীরবতা ভেঙে কখনো কান্না জুরে দেয় পুর্ন। কে জানে, হয়তো অবুঝ শিশুটিও বুঝে গেছে কি বিভীষিকাময় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে তার জীবনে।186809_1 copy

নিতান্তই ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেছে পুর্ন আর ফাইজা। হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটছে দুই ভাই-বোনের। দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিল ফাইজা। দুর্ঘটনার সময়ের সেই নির্মম চিত্রটি তুলে ধরলো ফাইজা। তার মুখে শোনা গেল নির্মম এই স্মৃতি। ফাইজা বলে, দুর্ঘটনার পরে আমি জ্ঞান হারাই। জ্ঞান ফেরার পরে আমি অনেক বমি করি। পরে আমি অনেক জোরে চিৎকার করি কিন্তু কেউ আমাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। পরে সেখানে পুলিশ আসছে। তাদেরকে আমি বলি আমার বাবা ও মায়ের যেন কিছু না হয়। তারা আমাকে বললো তুমি কোনো চিন্তা করো না। পরে গাড়ি থেকে প্রথমে আমাকে বেড় করছে পরে পুর্নকে বেড় করছে।

একমাত্র ভাই আর ভাবিকে হারিয়ে বোনেরাও যেন দিশেহারা। ডা. ফজলুল বারীর বোন নাহিদা ইয়াসমীন বলেন, আমরা যদি কখনো অসুস্থ হতাম তখন আমার ভাইয়া আমাদেরকে বলতো বেশিদিন কিন্তু বাঁচবি না। তার মানে হচ্ছে আমার যেন দ্রুত সচেতন হয়ে যাই। তিনি আমাদেরকে বলতো আমি মনে হয় বেশি দিন বাঁচবো না। আর আজকে সেটাই সত্যি হল। এক মুহূর্তেই সবকিছু উলোটপালট হয়ে গেল। অনিশ্চিত ভবিষ্যতে দুই শিশু।  1_r5_c2 copy

উল্লেখ্য, গত সোমবার মধ্যরাতে কুমিল্লা থেকে সপরিবারে ঢাকা ফিরছিলেন ডা. ফজলুল বারী। তিনি নিজেই চালাচ্ছিলেন গাড়ি। ছোট ছেলে পুর্ন ছিল বাবার কোলে। পাশের ছিটে ছিল দ্বিতীয় মেয়ে ফায়িজা। পেছনে ছিল মা ও বড় মেয়ে। পরে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইপাসে বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ। ঘটনাস্থলেই মারা যান ডা. ফজলুল বারী, তার স্ত্রী ও বড় মেয়ে।আস