বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

যেমন আছে ৬ তলা থেকে ফেলে দেয়া শিশুটি

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬

নিউজ ডেস্ক: নিজের অপবাদ গোছাতে ছয় তলার জানালার গ্রিলের ছোট্ট ফোকর দিয়ে নবজাতক শিশুটিকে চেপেচুপে বের করা হয়েছিল। তারপর সকল মায়া ত্যাগ করে নিজের সন্তানকে ফেলে দেয় এক কুমারী মা। রাজধানীর বেইলি রোডের ছয় তলা থেকে ফেলে দেয়ার পরও বিস্ময়করভাবে বেঁচে যায় নবজাতকটি। উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় আদ-দ্বীন হাসপাতালে।

186835_1
মঙ্গলবার রাতে তার রক্তচাপ বেশ কমে যাওয়ায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। অবশ্য রক্তচাপ বাড়ানোর ওষুধ দেয়ার পর তার অবস্থা এখন স্বাভাবিক বলে জানাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক এসএম জাবরুল হক।

তিনি জানান, শিশুটির ডান পায়ের হাড় ভেঙে গেলেও সেটা খুব তাড়াতাড়ি জোড়া লেগে যাবে বলে তাদের বিশ্বাস। তবে নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মাথার হাড়েও ফ্র্যাকচার পাওয়া গেছে। মাথার বাইরের অংশে রক্তক্ষরণও হচ্ছে।

তবে তিনি বলেছেন, ‘আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। আশা করি ঠিক হয়ে যাবে। যদিও ব্রেন টিস্যুতে ক্ষতি হলে ভবিষ্যতে তার সমস্যা হতে পারে।’
শিশুটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ডা. জাবরুল হক আরো বলেন, ‘এতোকিছুর পরও শিশুটির কর্মকা- এখন স্বাভাবিক নবজাতকের মতোই। বোঝার কোনো উপায় নেই যে, সে এতো বড় একটি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছে। এখন আর তেমন কান্নাকাটিও করছে না। এরকম থাকলে আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে।’

ভেঙে যাওয়া পায়ের হার নিয়ে তিনি বলেন, ‘শিশুটির পায়ের হাড় পুরোপুরি জোড়া লাগতে দু-তিনমাস সময় লাগবে। আর এক বছর পর বোঝাই যাবে না তার পায়ে কিছু হয়েছিল।’
তিনদিন বয়সী এই ছেলে শিশুটিকে এখন ‘বেবি অফ আদ-দ্বীন’ নামে ডাকা হচ্ছে। হাসপাতালের সবার কাছে এখন সে খুবই প্রিয় হয়ে উঠছে। একটু সুযোগ পেলেই খোঁজ নিচ্ছে সবাই। ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার আগেও ওই শিশুটি দেখে যান তারা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার জন্ম নেয়ার পরই নিজ সন্তানকে ছয় তলা ভবন থেকে নিচে ফেলে দেয় বিউটি আক্তার (১৬) নামে এক কুমারী মা। পরে দুপুরে স্থানীয়দের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শিশু সন্তানটিকে (ছেলে) উদ্ধার করে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আর সেই কিশোরী মাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই পুলিশী হেফাজতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

চিকিৎসাধীন বিউটি আক্তার জানায়, তার বাবার নাম আবু বকর প্রামাণিক। তাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নওকর গ্রামে। ঢাকায় বেইলী রোডের ২৬ নম্বর প্রোপার্টিজ মেনশনের ৬ তলায় আজমল হক ও ফিরোজা হকের বাসায় ৯ বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে সে।

তবে ৯ থেকে ১০ মাস আগে কুমিল্লায় বড় বোন লিপি আক্তারের বাসায় বেড়াতে যায় বিউটি। সেখানে তার বোনের স্বামী নীরব ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। কিন্তু এ কথা তিনি কাউকে জানতে দেয়নি।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেইলী রোডের বাসায় সে নিজেই ছেলে সন্তান প্রসব করে। প্রসবের পর জানাজানির ভয়ে নিজের সন্তানকে ৬ তলার উপর থেকে নিচে ফেলে দেয়। তবে অলৌকিকভাবে ছেলে সন্তানটি দ্বিতীয় তলার কার্নিশে আটকে যায়।

গৃহকর্তা আজমল হক জানান, তারা এ কয়েক মাসে বুঝতেই পারেননি যে বিউটি গর্ভবতী। এমন কোনো ধারণাও তাদের ছিল না।
এদিকে বিউটির শরীরের অবস্থাও বেশি ভালো নয়। থেমে থেমে তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ভালো হতে আরো কয়েকদিন লাগবে বলে জানিয়েছেন রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান।