শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

গণজাগরণ মঞ্চের গন্তব্য কোথায় ?

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৬

ঢাকা: বাংলাদেশে ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের তিন বছর পূর্ণ হলো আজ। ইতিমধ্যে তাদের দাবি পূরণ হলেও, প্রশ্ন থেকে গেছে এই মঞ্চের গন্তব্য নিয়ে৷
২০১৩ সালের ৫ই ফেব্রয়ারি ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের সূত্রপাত হয়৷ শাহবাগ চত্বরে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরোধিতায় সমবেত হন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টসহ সাধারণ মানুষ৷ তারা দাবি তোলেন মৃত্যুদণ্ডের৷ শাহবাগ হয়ে ওঠে উত্তাল৷ লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন আরব বসন্তের মতো নাম পায় ‘বাংলার বসন্ত’ হিসেবে৷00
এরপর ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন এবং আপিলে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের দাবি পূরণ হয়৷ ধীরে ধীরে শাহবাগের জমায়েত শেষ হয়, কিন্তু তারপরেও কার্যকর থাকে গণজাগরণ মঞ্চ৷ ২০১৪ সালে গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে নানা পক্ষের তৎপরতা দেখা যায়৷ দেখা যায় ভাঙনের আলামত। গণজাগরণ মঞ্চ সবচেয়ে বেশি বিরোধীতার শিকার হয় হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে৷ রাজীব হায়দারসহ সারা দেশে কম করে দশজন ব্লগার ও কর্মী নিহতও হন। কিন্তু ডা. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে চলতে থাকে এই মঞ্চ।
বাংলাদেশে এরইমধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচারে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীরা শাস্তি পেয়েছে। চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। প্রশ্ন হলো- এরপরেও কেন গণজাগরণ মঞ্চ সক্রিয়? কেন তাদের সক্রিয় থাকা আজও প্রয়োজন? এমন প্রশ্নের জবাবে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, “আমরা একটি ন্যায়নিষ্ঠ বাংলাদেশের জন্য কাজ করছি৷ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তার একটি অংশ৷ সুতরাং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হয়ে গেলেই আমাদের কাজ শেষ হবে না৷ আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এক ন্যায় বিচারের বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাবো। সবার অধিকার আর সাম্যের জন্য আমরা কাজ করছি, করবো।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল আমাদের পছন্দ করুক আর না করুক, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। সাধারণত সরকারের বিপক্ষে গেলে তারা বিরোধীতা করে। আমরা এ সব দিক বিবেচনায় নেই না। আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবো। এই কাজ করতে গিয়ে কিন্তু আমরা প্রাণ দিয়েছি, হামলা ও হুমকির শিকার হয়েছি।”
ইমরান এইচ সরকার বলেন, “শুরু থেকেই আমরা রাজনৈতিক আন্দোলন করছি। তবে দল নিরপেক্ষ, নির্দলীয়ভাবে। কারণ আমাদের যা লক্ষ্য, তা রাজনৈতিকভাবেই পূরণ সম্ভব। তাই আমরা রাজনীতির বাইরে নই৷ আমাদের দাবিও রাজনৈতিক। তাছাড়া একমাত্র রাজনীতিই পারে আমাদের দাবি পূরণ করতে।”খবর: ডিডব্লিউ।