রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

জীবন সঙ্গীকে শেষ দেখার অপেক্ষায় নববধূ

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬

রাজশাহী : দীর্ঘ দিনের ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা থেকেই বিয়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে। বিয়ের পরে মাত্র দুই মাস পরেই জীবিকার টানে সৌদি আরব চলে যেতে হয় মহিদুলকে। সেই যাওয়াই শেষ যাওয়া ছিল তার। চলতি বছর ২৯ জানুয়ারি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন মহিদুল। মৃত্যুর ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশে আসেনি মহিদুলের লাশ। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে জীবন সঙ্গীকে শেষ দেখার অপেক্ষায় বসে আছেন মহিদুলের নববিবাহিত স্ত্রী শারমিন। মহিদুল রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ব্যাঙ্গাড়ি গ্রামের আসমত আলীর ছেলে। কষ্টের সংসারে স্বচ্ছলতা আনার জন্য একমাস আগে সৌদি আরব যান মহিদুল। এক মাস পরিশ্রম করে বেতনও পান। সেই বেতনের টাকা মায়ের কাছে পাঠাতে ব্যাংকে যাচ্ছিলেন তিনি। আর পথিমধ্যেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হয় মহিদুলকে।2016_02_10_19_54_30_pKp7HNQfI1TBW0snUWW5hTaPh1wvUs_original

মহিদুলের অকাল মৃত্যুতে স্ত্রী শারমিনসহ পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নতুন জীবেন পা দেয়ার পর স্বামীকে কাছে পেয়েছে মাত্র দুই মাস। সেই স্বামী বিদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন শুনে শারমিন শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের লোকজন জানায়, অভাব অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতার জন্য বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন মহিদুল। পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি এতে সম্মতি ছিল মহিদুলের ভালবাসার মানুষ শারমিনেরও। পাশের গ্রাম কিশোরপুরের কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী শারমিনের সঙ্গে তার দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু শারমিনের সঙ্গে ভালোবাসার কি হবে? এমন চিন্তা থেকেই দেশের বাইরে যাওয়ার আগে বিয়ে হয় তাদের।

মহিদুলের এক আত্মীয় জানান, বর্তমানে তার সঙ্গীরা মহিদুলের লাশ দেশে পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পৌঁছবে এখনও তা জানা যায়নি। এদিকে মহিদুলের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। ২৯ জানুয়ারি তার মৃত্যু হলেও অদ্যাবধি লাশ দেশে না পরিবারটিতে শোক ও হতাশা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।

মহিদুলের স্ত্রী শারমিন বলেন, অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে দুজনে ঘর বেঁধেছিলাম। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই সব শেষ হয়ে গেছে। এখন শেষ দেখার অপেক্ষায় আছি। স্বামীর লাশ যেন দ্রুত দেশে আসে সে ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
বাংলামেইল