রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

যে কারণে ভেঙে যায় প্রেম?

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬

prem২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের এক দুপুর। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) নবীনবরণ চলছে। আজও স্পষ্ট মনে আছে শামীমা হকের, নবীনবরণের দিনই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় আরেক নবীন আরভীন শুভর। প্রথম দেখাতেই দুজন ভালোবাসায় বাঁধা পড়েছিলেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্রী শামীমা বলছিলেন, সব সময় আমরা একসঙ্গে থাকতাম। একদিন সাহস করে শুভ মনের কথা বলেও ফেললেন। শামীমাও কম যান না, পাক্কা এক মাস ঘুরিয়ে মন দিয়েছিলেন। তবে ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় জুটি শামীমা-শুভর সুখ বেশি দিন সইল না।

ছয় মাসের মাথায় অসৎ সঙ্গে পড়ে শুভ মাদকাসক্ত হলেন, ভাঙনের শুরু হলো। ‘ও আমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করত, ঠিকমতো ক্লাস করত না। দিনের পর দিন দেখা হতো না, কথা হতো না। পড়াশোনা বাদ দিয়ে খারাপ বন্ধুদের সঙ্গে বসে ড্রাগ নিত।’ চোখের কোণে জল জমছিল শামীমার। সাবধানে মুছে বললেন, ‘ওর ওই বন্ধুদের সঙ্গে একদিন খুব চেঁচামেচি করেছিলাম।’ এ ঘটনার জের ধরে শুভ প্রেমের ইতি টানেন। শামীমা ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন, শুভ সাড়া দেননি। শামীমা বললেন, ‘মাদকাসক্তি সব কিছু শেষ করে দিতে পারে। আমাদের গল্পটা এভাবে শেষ হওয়ার কথা ছিল না। ওকে রোজ দেখি। সে-ও আমাকে দেখে। কিন্তু কেউ কারো সঙ্গে কথা বলি না।’ ছাত্রছাত্রীদের অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া, ব্যস্ত জীবন এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবকে প্রেম ভেঙে যাওয়ার কারণ হিসেবে দায়ী করলেন। ফারইস্ট ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্টের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী আফরিন মৌ বললেন, ‘মানুষ আর আগের মতো সহনশীল নেই। অল্পতেই রেগে যায়। যে মানুষটির ওপর রাগ করছি, মনে থাকে না, তাকেই তো একসময় মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলাম।’

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্র শাহেদুল ইসলাম জানালেন, কলেজে পড়ার সময় থেকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনের অর্পাকে তিনি ভালোবাসতেন। পাঁচ বছরের সম্পর্ক তাঁদের। তবে অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে ইমনের মেলামেশা অর্পার সহ্য হতো না। ইমন বললেন, ‘অকারণে সন্দেহ করত। একদিন রাতে ফোন ওয়েটিং ছিল, কাজিনের সঙ্গে কথা বলছিলাম, পরে তো অর্পা ঝগড়া শুরু করল। আমিও মাথা গরম করে যা-তা বলে ফেলেছি।’ দুই মাস কেউ কারো মুখ দেখেননি। সম্প্রতি ইমন জেনেছেন, অর্পার নতুন সম্পর্ক হয়েছে। তিনি বললেন, ‘জেদ, সন্দেহের জের ধরে আমাদের এত দিনের প্রেম ভেঙে গেল।’ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পঞ্চম সেমিস্টারের তানজিম চৌধুরী বললেন, ‘সন্দেহ এবং ভাবনার সংকীর্ণতাই বহু দিনের সম্পর্ক নিমেষে ভেঙে ফেলে। একে অন্যের ওপর খুব বেশি মাত্রার নির্ভরশীলতাও সম্পর্কে ফাটল ধরায়। তখন ছোটখাটো কারণেই প্রেমিক-প্রেমিকার ঝগড়া হয়।’

ইউল্যাবের বিবিএ ডিপার্টমেন্টের পঞ্চম সেমিস্টারের মুনমুন দীপা বললেন, ‘সম্পর্কের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ থাকাটা খুব জরুরি। এখন যুগলরা একজন আরেকজনকে নিজের সম্পত্তি মনে করে, এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না বলে দুজন দুজনকে একরকম বন্দি করে ফেলে। ফলে সম্পর্কে ফাটল ধরে। অথচ বিশ্বাস করলে, শ্রদ্ধা করলে অপ্রীতিকর এই ঘটনাগুলো ঘটে না।

সূএ: কালের কণ্ঠ