মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ফরিদগঞ্জে আ.লীগের ৩ নেতাকে হুমকি: যা খাবি খাইয়া ল

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৬

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি: ফরিদগঞ্জে আওয়ামী ও যুবলীগের ৩ নেতাকে কাফনের কাপড়ে চিঠি লিখে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনটি কাফনের কাপড়ে হত্যার হুমকি এবং নিচে দিপু মোহাম্মদ ও ০১৭৯৮১৭৩২২২ মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। কাফনের কাপড়ে হত্যার হুমকি পেয়ে ৩ নেতাই শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ফরিদগঞ্জ থানায় ৩টি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ৩ নেতার বাড়ির আঙ্গিনায় পরিত্যক্ত প্যাকেটে কাপড় পাওয়া যায়। তাতে নাম উল্লেখ করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। তবে কাপড়ে লেখা দিপু মোহাম্মদ জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। দুষ্কৃতকারীরা তার নাম ব্যবহার করে তাকে ফাঁসাতে চাইছে।

হুমকিপ্রাপ্ত ৩ নেতা হচ্ছেন- ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পোয়া12669724_919807988137842_5467986038148870181_n গ্রামের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফজল আহম্মদ মাস্টার, সহ-সভাপতি আবুল বাশার বেপারী ও ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন জমাদার।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক জানান, ৩ জনকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রথম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিমপোয়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজল আহম্মদ মাস্টারের বাড়ির বৈঠকখানায় রাতের আঁধারে হত্যার হুমকি সম্বলিত লেখাসহ কে বা কারা কাফনের কাপড় রেখে যায়। কাপড়ের উপরে উল্লেখ ছিলো, ‘ফজল আহম্মদ মাস্টার, দেশের ডাকাতি, জুয়া, ইয়াবা বন্ধ করার জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওহিদের নিকট গিয়েছিলি। তোর জন্য কাফনের কাপড় পাঠাইলাম। যা খাবি খাইয়া ল। তিন দিন সময় দিলাম।’

দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল বাশার বেপারীর নাম উল্লেখ করে পশ্চিম পোয়া জামে মসিজিদের ভেতরে একটি কাফনের কাপড় ফেলে রাখা হয়। কাপড়ে উল্লেখ ছিলো ‘বাসির উল্ল্যাহ, তুই ফজল মাস্টার ও গিয়াস উদ্দিন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওহিদের কাছে গিয়ে দেশের ডাকাতি, জুয়া, ইয়াবা বন্ধ করবি। কাফনের কাপড় দিলাম। যা খাবি খাইয়া ল। তিন দিন সময় দিলাম। তোদের জম আমি আর রুবেল।’

তৃতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন জমাদারের বসতঘরের সামনের দরজায় কাফনের কাপড় ফেলে রাখা হয়। কাপড়ের উপর উল্লেখ ছিলো, ‘গিয়াস উদ্দিন জমাদার, দেশের ডাকাতি, জুয়া, ইয়াবা বন্ধ করার জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে গেছিলি। ওসি-দারোগা, কোট কাচারি আমাদের কিনা। যা খাবি খাইয়া ল।’

ফজল আহম্মদ মাস্টার জানান, আমি ভোরে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে যাই। আমার মেয়ে তানজিলা মসজিদে কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে বলে বাড়ির বৈঠকখানায় আমাকে হত্যার হুমকি সম্বলিত একটি কাফনের কাপড়ের প্যাকেট পড়ে আছে। আমি বিষয়টি থানা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম খান সোহেলকে জানাই। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা কয়েকজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে এলাকার বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে কথা বলার জন্য গিয়েছিলাম।

আবুল বাশার বেপারী জানান, মসজিদের মোয়াজ্জেম আমাকে ডেকে বলেন কে বা কারা আমার নাম দিয়ে মসজিদে কাফনের কাপড় রেখে গেছে। তিনদিনের মধ্যে আমাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। গিয়াস উদ্দিন জানান, আমার বাবা কাপনের কাপড়ের প্যাকেটটি সর্বপ্রথম দেখতে পান এবং আমাকে জানান।

এ বিষয়ে ওই এলাকার দীপু আহম্মদ জানান, আমার নামে দেয়া কাফনের কাপড় সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম খান সোহেল জানান, কাফনের কাপড় পাঠিয়ে কাউকে হত্যার হুমকি দেয়া অত্যন্ত খারাপ কাজ। আমি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি এবং প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দাবি করছি।