শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

ভয়ংকর প্রতিশোধ নির্যাতিত নারীর

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৬

nijatito
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গোপনে ধর্ষিত হতে থাকা এক নারী ভয়ংকর প্রতিশোধ নিলেন। ভয়ংকর এই অর্থে যে, নির্যাতিত নারীর কাছে বিকল্প হিসেবে প্রতিবাদের সুযোগ ছিল। নালিশ জানানোর জায়গা ছিল। কিন্তু তিনি সে পথে না হেঁটে ধর্ষক পুরুষের গোপনাঙ্গ কেটে নির্যাতনের প্রতিশোধ নিলেন।

বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে, নারীরা সবচেয়ে বেশি যৌন নিপীড়নের শিকার হয় আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের দ্বারা। এই চিত্র বিশ্বজুড়ে। ভারতেও তার ব্যতীক্রম নয়। এই ঘটনাটি তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। দুলাভাইয়ের অশ্লীলতার শিকার হয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এই নারী। ছলে-বলে-কলে-কৌশলে জোর করে দিনের পর দিন নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিল দুলাইভাই নামের নরপশু।

খবরটি ভারতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ কী? ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন সম্পর্কে ভারতীয় পরিসংখ্যান থেকে কিছু তথ্য দিলে এই গুরুত্বের মর্ম বোঝা যাবে হয়তো।

ভারতে নারীর ওপর সহিংসতা নিয়ে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন ২০১৫ সালে একটি জরিপ চালায়। জরিপে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্টজনদের দ্বারা নারীরা কতটা নির্যাতিত হয়, তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৯৮ ভাগ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত পরিচিত লোকজন। শুনতে খারাপ লাগলেও জরিপে উঠে আসা রূঢ় সত্যিটা বলতে বাধা কোথায়। এসব পরিচিত ধর্ষকের মধ্যে আছে বাবা, ভাই, চাচাতো ভাই, দুলাভাই, সহপাঠীসহ পাড়াপ্রতিবেশী।

বৃহস্পতিবার ভারতের মধ্য প্রদেশর সিধি শহরে ঘটে গেছে এমন ঘটনা যা আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে যায়। অনেকে শুনলে আঁতকে উঠবেন হয়তো। দিনের পর দিন দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার হয়ে ৩২ বছর বয়সি এক নারী কঠোর প্রতিশোধ নিলেন। পুলিশের কাছে যে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি, সেখানে বলেছেন, এর আগে জঘন্য চরিত্রের এই ধর্ষককে তিনি অনুনয়-বিনয়, হাতেপায়ে ধরে বুঝিয়েছেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই তাকে থামানো যায়নি।

বৃহস্পতিবার যখন ধর্ষক তাকে নির্যাতন শুরু করে, তখন কৌশলী হয়ে এক পর্যায়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলেন। এখানেই শেষ নয়, গোপনাঙ্গ নিয়ে তিনি থানায় চলে যান। সঙ্গে ছিল তার দুই সন্তান। ঘটনার বৃত্তান্ত শুনে পুলিশ লোকটিকে বাঁচানোর কথা চিন্তা করে। কিন্তু ততক্ষণে নিজের প্রাণ নিজে নিয়ে সামাজিক লজ্জা থেকে চিরতরে আড়ালে চলে গেছেন কথিত দুলাভাই। একটি গাছের ডালে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে সে।

এই নারীর স্বামী চাকরির সুবাদে নাশিক শহরে থাকেন। দুই সন্তান নিয়ে সিধি শহরে তিনি তার দুলাভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। দুলাভাইয়ের কাছে নিশ্চয়ই নিরাপত্তার জন্য থাকতেন? কিন্তু তার জীবনে যা ঘটতে শুরু করে তিনি কখনো তা ভাবতেও পারেননি। তার জীবনকে গরলগারদ করে তুলেছিল শয়তানরূপি এই মানুষটি।

সিধি পুলিশের এসপি আবিদ খান টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, এটি একটি বিরল ঘটনা। তবে এই নারীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। ঘটনার আড়ালে কোনো ঘটনা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারপর মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

হ্যাঁ, পুলিশের কাজ পুলিশ করবে। কিন্তু গণমাধ্যমে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে ধর্ষকের অপরাধ আড়াল করার মতো নয়। এই ধর্ষণ মহামারি থেকে নারীরা কি কোনো দিন রক্ষা পাবে না? না কি সহিংসতা ঠেকাতে ‘নারীরাও সহিংস হয়ে উঠুক’- সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার নারী সমাজকে এমন বার্তা দিতে চাইছে? এমনটি প্রত্যাশিত নয়। আমরা চাই নারী-পুরুষের সহবস্থান ও সমানানুভূতির সমাজ। সেই দিন কি বহুদূর? বিশ্বজুড়ে নারী সমাজ আর কত দিন নিগৃহীত হবে পুরুষের ঘৃণ্য লালসায়? এর জবাব হয়তো সেদিনই ঠিকঠাক দেওয়া সম্ভব হবে, যেদিন নারীকে মানুষ বিবেচনার সত্যিকারের মনস্তাত্তিক ভিত তৈরি হবে।