বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯

১ কেজি আলু ২০০ টাকা

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৬

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের অধিকাংশ কারাগারে আটক বন্দীদের জিম্মি করে ‘ক্যান্টিনবাণিজ্য’ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০ টাকার আলু ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গরুর গোশDSC08016ত বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায়। কারারক্ষী, সুবেদার ও কারাগারে বন্দী কয়েদি সিন্ডিকেট মিলে কারাক্যান্টিনবাণিজ্য করে রাতারাতি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার বন্দী রয়েছেন। এসব বন্দী কারাগারের ভেতরে গড়ে ওঠা কারাক্যান্টিন থেকে মাছ, গোশত, মুরগি, শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্য (পিসি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে) কিনছেন। তবে এখান থেকে কোনো বন্দীই বাজারমূল্যের দু-তিন গুণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮-১০ গুণ দাম দিয়ে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বিষয়টি কারাপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একাধিক বন্দী নাম না জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নয়া দিগন্তকে বলেন, কারাগারের ভেতরের পরিবেশ কী তা যারা ভেতরে আছেন তারাই ভালো বলতে পারেন। তারা বলেন, থাকা-খাওয়ার অসুবিধাই সবচেয়ে বেশি। সরকারি খাবারের পাশাপাশি যারা একটু ভালো থাকতে চান তারা কারাক্যান্টিন থেকে পিসি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যেকোনো পণ্য কিনতে পারেন।
কিন্তু বেশির ভাগ পণ্যই বাজারমূল্যের কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন কারারক্ষী ও কয়েদিরা মিলে। এদের নেপথ্যে থেকে মদদ দিচ্ছেন এক সুবেদার। যার কারণে কারাক্যান্টিনে অনিয়ম হতে থাকলেও তা নিয়ে কারাপ্রশাসন মাথা ঘামান না। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা জানি এক কেজি আলুর দাম বাইরে সর্বোচ্চ ২০ টাকা। কিন্তু কারাক্যান্টিনে ওই আলু কারারক্ষীরা বিক্রি করছেন ২০০ টাকা কেজিতে। একটি মুরগি (১ কেজি) ৮০০ টাকা, তাও আবার ওজনে ৭০০ গ্রাম করে দিচ্ছে। গরুর গোশত ৮০০ টাকা কেজি। তারা বলেন, শাকসবজির কেজি ২০০ টাকার নিচে তারা রাখতেই চান না। পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় বেশির ভাগ বন্দী কিনতে পারেন না। বলতে গেলে বন্দীরা এখন কারাক্যান্টিন পরিচালনাকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। উপায় না থাকায় অনেকেই চড়া দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে তারা বন্দী নির্যাতনকারী কারারক্ষীদের নাম জানাতে পারেননি।
কারাগারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভেতরের কারাক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন কারারক্ষী মুক্তার, আসাদ ও কয়েদি রানা। কারাকর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় তারা মাসিক বড় অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে এই ক্যান্টিন লিজ নিয়েছেন। এ কারণে তারা ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম আদায় করছেন। এদেরকে নেপথ্যে থেকে একজন সুবেদার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আর ক্যান্টিনের এই টাকার ভাগ উপর পর্যন্ত যাওয়ার কারণে ক্যান্টিন ঘিরে শুরু হয়েছে রমরমা বাণিজ্য। ওই সূত্র জানায়, শুধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নয়, দেশের বেশির ভাগ কারাগার ঘিরেই এখন ক্যান্টিনবাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠেছে।

অভিযোগের ব্যাপারে গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবে কারা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কারাক্যান্টিন গড়ে উঠার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল বন্দীরা যাতে কম টাকায় ভালো মানের খাবার খেতে পারেন। কিন্তু কারাপ্রশাসন মনে হয় বন্দীদের ভালো থাকার চিন্তা বাদ দিয়ে এখন পুরোদমে ব্যবসায় নেমে পড়েছে। যার সুযোগ নিচ্ছেন ক্যান্টিন পরিচালনাকারী কারারক্ষীসহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তারা বলেন, অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুবা কারাগারের ইমেজ দিন দিন আরো খারাপ হতে থাকবে। উৎসঃ নয়াদিগন্ত