বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আগামী সপ্তাহ থেকে
নতুন স্কেলে বেতন পাচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৬

নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা নতুন বেতন কাঠামো নতুন স্কেল অনুযায়ী বেতন পাওয়া শুরু করেছেন। জানুয়ারি মাস থেকে বেতন পাওয়ার পাশাপাশি জুলাই মাস থেকে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করার কারণে যে বকেয়া পড়েছিল ওই বেতন ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পেয়েছেন। এখন তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। সরকারি চাকরি করলেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এখনও নতুন বেতন স্কেলে বেতন পায়নি। আগামী সপ্তাহ থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নতুন স্কেলে বেতন পাবে বলে জানাগেছে। কিন্তু তাদের বিষয়টি আটকে আছে অর্থ বিভাগে। অর্থ বিভাগ ছাড় না দেওয়ার কারণে জানুয়ারি মাসে তারা বেতন পেয়েছেন পুরনো স্কেলে। কি কারণে এটা হয়েছে এই ব্যাপারেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কিছুটা কৌতুহল রয়েছে। এই ব্যাপারে অর্থ বিভাগে খবর নিয়ে জানা গেলো প্রকৃত ঘটনা।

2000px-বাংলাদেশ_সামরিক_বাহিনীর_প্রতীক.svg
অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন যে বেতন স্কেল করা হয়েছে সেটা অর্থ বিভাগ থেকে ছাড় দেয়নি। কিছুটা কাজ রয়েছে। এই কারণে সময় লাগছে। এখন অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন বিভাগ থেকে অনুমোদন দিলে এরপর সেটা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নতুন বেতন স্কেল করে যে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে অন্যান্যবারের চেয়ে এবার অনেক বেশি পরিবর্তন এসেছে। বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বেতন কাঠামোও নতুন করে করার কারণে সেখানেও অনেক সংস্কার করা হয়েছে। সেখানেও সময় লেগেছে অনেক। সশস্ত্র বাহিনীরটাতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগছে, কারণ তাদের বেতন কমিশন যে বেতন ঠিক করেছেন সেখানে দু একটি পদে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বেতন বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এই বৈষম্য অর্থ মন্ত্রণালয় মেনে নিতে পারেনি। এই কারণে তারা আপত্তিও তুলেছে। তারা চাইছে পুলিশের ওই পদের সঙ্গে সমমানের পদ মর্যাদায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সমান বেতন হতে হবে। বেতনে কোন বৈষম্য করা যাবে না।

সেখানকার একজন কর্মকর্তা বলেন, বেতন নিয়ে কোন বাহিনীতে বৈষম্য তৈরি করা যাবে না। এর আগেও বেতন কাঠামো করা হয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করেই। সরকারি চাকরিতে বৈষম্য করার কোন সুযোগ না থাকায় অর্থ বিভাগ এই ব্যাপারে সশস্ত্র বাহিনীদের সদস্যদের জন্য যে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ওই নির্ধারিত বেতন স্কেল অনুমোদন দিয়ে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠায়নি।
এই ব্যাপারে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, যে বৈষম্য ছিল সেটা দূর করার জন্য আলোচনার ভিত্তিতেই সমন্বয় করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখন বিষয়টি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। তিনি বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর বিষয়টিতে অনুমোদন দিবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সেটা অর্থ বিভাগ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। তিনি অনুমোদন দিলে তা যাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

 

সূত্র জানায়, বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বেতন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বেতন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এই ব্যাপারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খালেদা পারভীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর জন্য যে বেতন কাঠামো ও স্কেল তৈরি করা হয়েছে সেই সংক্রান্ত অনুমোদিত কপি পাইনি। সেটা অর্থ বিভাগে আছে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর থেকে অনুমোদান হয়ে আমাদের কাছে এলে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছে ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে। ওই সময় থেকে তারা নতুন বেতন স্কেলে বেতন পাবেন। তবে ভাতা পাবেন আগের বেতন স্কেল অনুযায়ী। নতুন বেতন স্কেলের ভাতা পাবেন ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে। সেই হিসাবে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মূল বেতনের যে বেতন বকেয়া পড়েছিল তা দুই কিস্তিতে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রথম দুই কিস্তি দেওয়া হয়েছে ডিসেম্বর মাসের সঙ্গে।

 

আর জানুয়ারি মাসে দেওয়া হয়েছে বাকি তিনমাসের বকেয়া। এখন আর তাদের বকেয়া নেই। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বেলায়ও একই রকমভাবে বেতন কার্যকর করা হবে। তাদের বেতন স্কেল অনুমোদন হয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হলে এর থেকেই দেওয়া শুরু হবে।
বেতনের কোন স্কেলে বৈষম্য রয়েছে জানতে চাইলে, অর্থ বিভাগের সূত্র জানায় সামরিক বাহিনীর ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের শুরুর দিকের দুটি পদ। এই ব্যাপারে একটি সূত্র জানায়, নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করার পর এখনও তারা বেতন না পেলেও খরচ বেড়ে গেছে। বাড়ি ভাড়া বেড়েছে, যানবাহন খরচ বেড়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়েছে। এতে করে বিভিন্ন খাতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের খরচ বেড়েছে। এখনও বাড়তি বেতন না পাওয়াতে খরচ চাইলেও কমিয়ে রাখতে পারছে না। অনেকেরই বাড়তি ব্যয় মেটানোর জন্য বিভিন্ন দিকের ব্যয় সংকোচন করার চেষ্টা করছেন।

আমাদের সময়.কম