সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

এই প্রথম খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বিচার চাইলেন

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৬

নিউজ ডেস্ক: তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অস্থির। সময় সময় সংঘাত-সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে মানুষ। সম্পদের ক্ষতির তো কোনো হিসাবই নেই। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত। আর রাজনীতিতেও একটা সুবাতাস বইছে। সরকার মাঠের বিরোধীদল সবাই একটু নরমসুরে কথা বলেছেন। আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেতাকর্মীদের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। বর্তমান রাজনীতি প্রসঙ্গে নৌ ও পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আমি মনে করি রাজনীতিতে সুবাতাস বইছে। আর প্রধানমন্ত্রী ২২ ফেব্রুয়ারি বলেছেন, আমাকে আর খালেদাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন দুই সম্পাদক। এই প্রথম খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিচার চাইলেন। এক্ষেত্রে রাজনীতিও ইতিবাচক ধারায় যাবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

bull-bangladesh1-master675-v2
শেখ হাসিনা বলেন, এই দুটি পত্রিকা সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকারের সময় ডিজিএফআইয়ের লিখে দেয়া মিথ্যা সংবাদ ছাপিয়ে রাজনীতি থেকে আমাকে এবং খালেদা জিয়াকে চিরদিনের জন্য সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। আর ডেইলি স্টার সম্পাদক আমাকে দুর্নীতিবাজ বানানোর বহু চেষ্টা করেছেন। তিনি তা স্বীকারও করেছেন। কিন্তু তাদের পিতৃতুল্য বিশ্বব্যাংকও দুর্নীতিবাজ বানাতে পারেনি। আসলে সত্য কখনো চাপা থাকে না। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের পদত্যাগ করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিএফআই তথ্য দিয়েছে আর আপনি সুবোধ বালকের মতো তা লিখে দিলেন, এটা কোন পাগল বিশ্বাস করবে? তার জন্য আমাদেরসহ দেশের জনগণকে খেসারত দিতে হয়েছে। অথচ তিনি ভুল স্বীকার করে পদত্যাগ করার সাহস দেখাতে পারেননি। তাই শুধু ভুল স্বীকার নয়, এতোটুকু আত্মমর্যাদাবোধ থাকলে এরপরে নিশ্চয়ই তিনি পদত্যাগ করতেন।
জনগণ ছাড়া তাকে কেউ মাইনাস করতে পারবে না বলে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আমাকে নাকি তারা মাইনাস করে দেবে। অতীতে যারা মাইনাস করতে চেয়েছেন, তারাই মাইনাস হয়ে গেছেন।
২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এক কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, যারা মুখে ‘মাইনাস টু’ এর কথা বলতো, তারা আসলে ‘মাইনাস ওয়ান’ ফর্মুলা বাস্তবায়ন করে বিএনপিকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল।
১১ জানুয়ারির ঘটনার জন্য তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদকে দায়ী করে তিনি বলেন, “মইন বিএনপির ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমান হতে চেয়েছিলেন। এজন্য বিএনপির কিছু বেঈমানও তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিল।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘এক-এগারোর সরকারকে আমরা এক ইঞ্চিও ছাড় দিইনি। আমরা তথাকথিত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল জননেত্রী জেল থেকে বেরিয়ে আসবে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করব এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করব।’
২২ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে ওসমানী মিলনায়তনে রুখে দাও লেলিহান ও জাতীয় সংসদে শাজাহান খান এমপি শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফ এসব কথা বলেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘অনেকেই আমাদের কাছে এসেছিলেন। বলেছিলেন, আসেন আমরা বিএনপি-আওয়ামী লীগ মিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে উৎখাত করি। আমরা ভয়ংকর এই প্রস্তাবে রাজি হইনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক রাজনীতি ফিরিয়ে আনা।’
‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র’ নামে একটি বই লিখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এক-এগারোতে দুই নেত্রীর মধ্যে তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন মওদুদ।
ব্যারিস্টার মওদুদের ভাষায়, দুই নেত্রীর জন্য এটি একটি আত্মোপলব্ধি, আত্মশুদ্ধি এবং আত্ম সংস্কারের বিষয়। যদি এ বিষয়টি বোঝার মতো শক্তি বা মেধা তাদের মধ্যে না থাকে তাহলে বাংলাদেশ আর কখনো আগের অবস্থানে ফিরে যাবে না।
অসীম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সুষ্ঠু পরিবেশ আবার ফিরে আসার আর সম্ভাবনা থাকবে না। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহতই থেকে যাবে। ভবিষ্যতে হয়তো নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু তা হবে দেশটিতে একটি নতজানু সরকার প্রতিষ্ঠারই উপলক্ষে মাত্র। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে দেশটির অবস্থান ক্রমে গুরুত্ব পাবে আর তাই দেশটিকে নিয়ে ষড়যন্ত্রও চলতে থাকবে।
বর্তমান রাজনীতি প্রসঙ্গে নৌ ও পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি রাজনীতিতে সুবাতাস বইছে। বিএনপি ভুল বুঝতে পারলে, সঠিক পথে আসলে রাজনীতির এ সুবাতাস অব্যাহত থাকবে। আমাদের অর্থনীতির কার্যালয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি কথা বলেন।
২০০৭ সালের জানুয়ারির ১১ তারিখ ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ফখরুদ্দীন আহমেদের সরকার।
যা ঘটেছিল সেদিন
২০০৬ সালের শেষভাগে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা-হানাহানির আপাত অবসান ঘটে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের জরুরি অবস্থা জারির মধ্যে দিয়ে। একইসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেন তিনি। বাতিল করা হয় ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন।
দেশজুড়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির স্বার্থে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
সেদিন সন্ধ্যা থেকেই জরুরি অবস্থা কার্যকর হয়। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সব মহানগরী ও জেলা শহরে ঘোষণা করা হয় কারফিউ।
গভীর রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম করতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পরদিন সেনা বাহিনীর সমর্থন নিয়ে নতুন প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদ।
‘ওয়ান ইলেভেন’এর পটপরিবর্তন নানান অস্বস্তির জন্ম দেয় শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। দল ভাঙা-দল গড়ার ‘খেলা’ও ওই সময়ে দেখে জনগণ।
১১ জানুয়ারি ক্ষমতার পালাবদলের পর জরুরি ক্ষমতার আওতায় রাজনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ হয়েছিল। দুর্নীতির মামলায় বহু রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার হন শীর্ষ দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মুক্তি দিয়েই নির্বাচনের দিকে এগোতে হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে।
শুরুতে দেশের মানুষ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সমর্থন করলেও এক সময় তা কমে আসে এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি বাড়তে থাকে।
সেনা সমর্থিত ওই সরকারকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় ছাত্ররা। ২০০৭ সালের অগাস্টে সেনা সদস্যের ছাত্র লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। পরে তা সারাদেশে ছাত্রবিক্ষোভে রূপ নেয়।
ছাত্র বিক্ষোভের ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রকে। পরে সাজা হলেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সরকার।
এই সরকার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে দুই বছর পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর, আবার গণতন্ত্রে ফেরে দেশ।আস