শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯

শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেয়া হচ্ছে

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ৩, ২০১৬
news-image

আজাদ হোসেন সুমন: পুলিশ সপ্তাহকে সামনে রেখে পুলিশের বিপিএম ও পিপিএম বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে সেবা ও সাহসিকতামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক দেয়া হচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমনের জন্য প্রাণ দিয়েছেন এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন-তাদেরকে এবার অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বরাবরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ জানুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠে অনুষ্ঠিতব্য পুলিশ সপ্তার উদ্বোধন করবেন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) এর জন্য নির্বাচিত সদস্যদের মাঝে পদক বিতরণ করবেন।
পুলিশ সদর দফতরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যথারীতি এবারও চার ধরনের কর্মতৎপরতার জন্য পদকের জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্বাচিত করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে পুলিশ পদক সাহসিকতা ও সেবা এবং রাষ্ট্রপতি পদক সাহসকতা ও সেবা। ইতিমধ্যে নগর ও জেলা মিলিয়ে সারাদেশ থেকেই মনোনয়নের জন্য আবেদন এসেছে। তার মধ্যে থেকে যোগ্যতার মাপকাঠিতে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চলতি সপ্তায় একটি সভা হবে পুলিশ সদর দফতরে। সূত্রের দেয়া তথ্যমতে গত বছর মোট ১০৫ জনকে পদক প্রদান করা হয়েছিল, এবারও শতাধিক কর্মকর্তাকে এ পদকের জন্য মনোনীত করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সারাদেশ থেকে স্ব স্ব ইউনিটের মাধ্যমে আসা আবেদনের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এবার জঙ্গিবাদ দমনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গিদমনে সফলতা অর্জন করেছেন। তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এছাড়া অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, ঝুঁকি নিয়ে ছিনতাইকারী গ্রেফতার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে দৃঢ়তা ও সাহসিকতার পরিচয় প্রদানকারী কর্মকর্তাদেরও বিপিএম ও পিপিএম (সাহসিকতা) পদকের জন্য নির্বাচিত করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে যাদের সুনাম আছে এবং যারা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ সেবা, মানবিক কাজ এবং পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি বিনির্মাণে নীরবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদেরকে বিপিএম ও পিপিএম ( সেবা ) পদকের জন্য মনোনীত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আইজিপি একেএম শহীদুল হক মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ভালকাজের পুরস্কার ও মন্দকাজের তিরস্কারে বিশ্বাসী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। কাজে গতি আনার লক্ষ্যে স্বীকৃতির কোনো বিকল্প নেই। ফলে প্রতিবছর কাজের স্বীকৃতি হিসেব পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য এ পদকের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এতে যেটা ঘটে সেটা হচ্ছে যারা পুরস্কার পায় তারা উজ্জীবিত হয় এবং পূর্নোদ্যমে দায়িত্ব পালন করে। আর যারা পুরস্কার পায় না-তারাও ভালো কাজের জন্য উদ্ধুদ্ধ হয়। তিনি বলেন, এবার পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যে হারে জঙ্গি দমনে সফলতা দেখিয়েছেন, জীবন দিয়ে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গি দমন করেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করেছেন এবং সর্বোপরি সরকার ও দেশের ভাবমূর্তিকে একধাপ উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এই হিসেবে দিতে গেলে পদক সংখ্যা সহ¯্রাধিক হবে কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা সবাইকে পদক দিতে পারছিনা। যাদেরকে আমরা আনুষ্ঠানিক পদকের জন্য নির্বাচিত করতে পারছিনা পুলিশ প্রধান হিসেবে তাদের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা থাকবে এবং তারা পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মননে শ্রদ্ধারপাত্র হিসেবে বিবেচিত হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
সূত্র জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি টিম রয়েছে এ পদক নির্বাচন প্রক্রিয়ায়। চলতি মাসে বাছাইকৃত তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে যাবে এবং এবং সেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত অনুমোদন দিবেন।