সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ফিদেল কাস্ত্রোর শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন বিশ্ব নেতারা

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ৪, ২০১৬
news-image

কিউবার সান্তিয়াগোতে শেষযাত্রার পথে বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর দেহভস্ম। সাম্যবাদের এই স্বপদ্রষ্টাকে বিদায়ী শ্রদ্ধা জানাতে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি কিউবান জনতা ও বিশ্বনেতারা।
এ ছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ফিদেলের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করছেন কোটি জনতা। বিশ্বনেতাদের মধ্যে রয়েছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা, গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সি সাইপ্রাস, উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোসে মুজিকা।
এছাড়া এসেছেন স্পেনের সাবেক রাজা জুয়ান কারলোস ডি বোরবোন, বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস, নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওরতেগা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা ডি সিলভা এবং দিলমা রুসেফ। যোগ দিয়েছেন রাউলের বন্ধু আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা দিয়েগো ম্যারাডোনাও।
শেষকৃত্যে নেতৃত্ব দেওয়া কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো বড় ভাইয়ের সমাজতান্ত্রিক নীতি আমৃত্যু চালিয়ে নেওয়ার শপথ করেন। বলেন,‘ফিদেলের নামে কিউবায় কখনো কোনো স্থাপনা অথবা ভাস্কর্য গড়া হবে না। তাঁর নামে রাস্তার নামকরণও নিষিদ্ধ করা হবে। কারণ ফিদেল কঠোরভাবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির উপাসনার বিরোধী ছিলেন।’
১রাউল আরো বলেন, পদযাত্রার পর কিউবার স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের জন্য নির্মিত সান্তা ইফিজেনিয়া সমাধি ক্ষেত্রে ফিদেলকে শেষ শয্যায় শায়িত করা হবে। এ সমাধি ক্ষেত্রেই শায়িত আছেন ফিদেলের বন্ধু ও কিউবার স্বাধীনতা যুদ্ধের আরেক বিপ্লবী নেতা হোসে মার্টি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পৃথিবীজুড়ে আধিপত্য কায়েম করা মার্কিন সাম্রাজ্যের তীব্র নিন্দা করেছিলেন ফিদেল। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র, অসম বাণিজ্য চুক্তি, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফকে ব্যবহার করে সাহায্যের আড়ালে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে মার্কিন নির্ভরশীলতায় অভ্যস্ত ও দেনার দায়ে জর্জরিত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছিলেন ক্যাস্ত্রো।
১৯৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকারের পতন ঘটিয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আরোহণ করেন তিনি। ২০০৬ সালে অন্ত্রনালীর রোগে আক্রান্ত হয়ে ছোট ভাই রাহুল কাস্ত্রোকে ২০০৮ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। মার্কিন বিরোধী ছিলেন বলে পশ্চিমা সমাজ তাকে ‘একনায়ক’ ও ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দিয়ে এসেছে।
তারপরও ১১ কোটি মানুষের ক্যারাবিয়ান দ্বীপের এই রাষ্ট্রপ্রধান ২০ শতকের জনপ্রিয় বৈশ্বিক নেতা ছিলেন। রাণী এলিজাবেথ ছাড়া অন্য যে কোনো নেতার তুলনায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। ২৬ নভেম্বর, ২০১৬ সালে দৈহিকভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করা এই নেতা।
সূত্র: বিবিসি ও গার্ডিয়ান