রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ঝাড়ুদার ময়লা ফেলতে গিয়ে পেলেন দিয়াজের সনদ

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬
news-image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফানের স্নাতকের সনদ ও তাঁর বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়া গেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের দক্ষিণ পাশের পানির ট্যাংকের সামনে। ওই হলের ঝাড়ুদার ময়লা ফেলতে গিয়ে ওই সনদ পড়ে থাকতে দেখেন।

আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও হাটহাজারী থানার পুলিশ এ সনদ দুটি উদ্ধার করে। দিয়াজের পরিবারের দাবি, এ সনদ দুটি দিয়াজ ‘হত্যা’র পর থেকে বাসায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। হত্যাকারীরা তাঁর মুঠোফোনের সঙ্গে সনদগুলো নিয়ে গিয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।

দিয়াজের বড় বোন জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ২৯ অক্টোবর আমাদের বাসায় হামলার পর দিয়াজের সব সনদ, ল্যাপটপ ও মায়ের স্বর্ণালংকার নিয়ে যান আলমগীর টিপুসহ তাঁর অনুসারীরা। পরে টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন অভি সনদগুলো ফেরত দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিয়াজ হত্যার পর থেকে আমরা তাঁর মুঠোফোন ও সনদগুলো পাচ্ছিলাম না। খুনিরা খুন করে যাওয়ার সময় মুঠোফোন ও সনদগুলো নিয়ে গিয়েছিল। এ সনদগুলো পাওয়া যাওয়াই এটা স্পষ্ট হলো মামলার আসামিরাই আমার ভাইকে হত্যা করেছে। প্রাথমিকভাবে ময়নাতদন্তে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ায় ভয় পেয়ে আসামিরা সনদগুলো ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে।’

অভিযোগ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন অভির মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টায় শাহ আমানত হলের ঝাড়ুদার সিরাজুল ইসলাম হল ঝাড়ু দেওয়ার পর ময়লা ফেলতে যান ছাত্রাবাসের দক্ষিণ পার্শ্বে। এ সময় তিনি সনদ দুটি দেখতে পেয়ে হল কর্তৃপক্ষকে জানান। হল কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানালে প্রক্টর ও হাটহাজারী থানা-পুলিশ সনদ দুটি উদ্ধার করে।

ঝাড়ুদার সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ময়লা ফেলতে ছাত্রাবাসের দক্ষিণ পাশে গেলে দুটি কাগজ দেখতে পাই। ভালো করে তাকিয়ে দেখি এগুলো কারও সনদ। আমি বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে জানাই। হল কর্তৃপক্ষ প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশকে বিষয়টি জানালে তারা এসে সনদ দুটি নিয়ে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাড়ে ১০টায় হল কর্তৃপক্ষ দুটি সনদ হলের দক্ষিণ পাশের পানির ট্যাংকের সামনে আছে বলে জানায়। আমরা সেখান থেকে পুলিশসহ গিয়ে সনদ দুটি উদ্ধার করি। সনদ দুটির একটি দিয়াজের স্নাতক পাসের ও আরেকটি তাঁর বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ। বর্তমানে সনদ দুটি আমাদের জিম্মায় আছে।’
১১ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজে দিয়াজের মরদেহের দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন বলছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মরদেহে ‘আঘাতের চিহ্ন’ রয়েছে। এর আগে গত ২১ নভেম্বর দিয়াজের মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ২৩ নভেম্বর পুলিশ জানায়, দিয়াজ আত্মহত্যা করেছেন বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

গত ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেট এলাকার নিজ বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর ২২ দিন আগে দিয়াজসহ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের চার নেতার বাসায় তাণ্ডব চালানো হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৯৫ কোটি টাকার দরপত্রের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী নেতা-কর্মীরা ওই হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। দিয়াজ আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গেলেও ক্যাম্পাসে তাঁর বেশ প্রভাব ছিল। তাঁর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।