মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭

রেকর্ড প্রবৃদ্ধি নিয়ে রাজস্বে লক্ষ্যমাত্রার পথে এনবিআর

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ২১, ২০১৬
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ১৬.৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বিগত পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে একই সময়ে সর্বাধিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে রাজস্ব আদায়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআর সঠিক পথে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দেশকে স্বাবলম্বী করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজস্ব প্রদানে সবাই উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং এনবিআরে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর পরিশ্রমই এ সাফল্যের মূল কারণ বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. নজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে, ঋণ প্রভাব বাড়ছে, বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার (এডিপি) বাস্তবায়ন বাড়ছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের উপরে। সকল স্তরে যার প্রভাব পড়েছে। আমরা অনেকটা শুভ চক্রের মধ্যে আছি। রাজস্ব বাড়ছে। আশা করছি অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করব।’

এনবিআর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল ১৫.৬০ শতাংশ। যেখানে ওই একই সময়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ১২.৩২ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১০.৫৯ শতাংশ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ে চলতি অর্থবছরে সর্বাধিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এনবিআর।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি আয়কর, আমদানি-রপ্তানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এই তিন বিভাগ থেকে মোট ৬৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৮ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৫৪ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা।

এ অর্থবছরে রাজস্বে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে শুল্ক বিভাগে। শুল্কে ১৮.৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই বিভাগে চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২০ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। যেখানে গত অর্থবছরে শুল্ক বিভাগে ১৭ হাজার ৬১ কোটি টাকা রা্জস্ব আদায় হয়েছে।

এ বিষয়ে শুল্ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শুল্ক বিভাগে  অপেক্ষাকৃত দক্ষ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশন ও শুল্ক গোয়েন্দায় পদস্থ করা, শুল্ক গোয়েন্দার চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর তৎপরতা, এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ শুল্ক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা এবং সকল স্টোক হোল্ডারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনই বেশি রাজস্ব আদায়ের মূল কারণ।’

অন্যদিকে মূসক বা ভ্যাট বিভাগ থেকে প্রথম পাঁচ মাসে আদায় ২৪ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একই সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ২১ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। এই বিভাগে প্রবৃদ্ধি ১৫.৭৯ শতাংশ।

আদায় বেড়েছে আয়কর বিভাগে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর আদায় হয়েছে ১৮ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। যেখানে গত অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছিল ১৬ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.৯৬ শতাংশ।

শুধু তাই নয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি করদাতা সংগ্রহে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে জাতীয় রাজস্ব্ বোর্ড। ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রত্যাশিত ২৫ লাখ করদাতা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে আরো এগিয়ে গিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রায় ৬ লাখ নতুন করদাতা নিবন্ধিত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুসারে ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ইটিআইএন) নেওয়া করদাতার সংখ্যা ২৫ লাখ ৭৫ হাজার। এনবিআর আশা করছে, বছর শেষে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ৩০ লাখ অতিক্রম করবে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান আরো বলেন, ‘এ সাফল্যের মূল কারণ মানুষ এখন অনেক রাজস্ববান্ধব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাবলম্বী ও কর দেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাতে সবাই উদ্বুদ্ধ হয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও কঠোর পরিশ্রম করছেন। মাঠ পর্যায়ের পরিসংখ্যান অনেক বেশি পজেটিভ।’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে আমরা এক সঙ্গে কাজ করছি। আয়কর বিভাগ, শুল্ক বিভাগ ও ভ্যাট বিভাগকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। যেখানে আগে অনেকটা আলাদা আলাদাভাবে কাজের প্রবণতা ছিল, এখন অনেকটা সুসমন্বিতভাবে কাজ চলছে। আমরা করদাতাদের সেবা দিতে মেলার পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি। কারণ আইনের চোখে সবাই সমান।’

উল্লেখ্য, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর খাতে ৭১ হাজার ৯৪০ কোটি, মূল্য সংযোজন করে (মূসক/ভ্যাট) ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি এবং আমদানি-রপ্তানি শুল্ক বিভাগে ৫৮ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর