সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাবিতে সাধারন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬
news-image

রাবি প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের­ লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
অাজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অাবার গ্রন্থাগারের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তাসনোভা তাহরিন অন্তরার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদীন। তিনি বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে, তারা যখন যা ইচ্ছা তখন তাই করবে। রাবি প্রশাসন যে দ্বিমুখী নীতিতে চলে তারই ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারন শিক্ষার্থীদের। আপনাদেরকে যে কোন একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে।
মিনহাজুল অাবেদীন আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরকে যখন বাধ্য হয়ে দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে হয়, বহিরাগতদের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়, অামাদের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তবে এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে?
ইসঃ ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, “বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী, টোকাইয়েরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করবে এটা মনে নেওয়া যায় না, আমাদের আত্মসম্মানে লাগে যখন সেই টোকাইরা আমাদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলে। অাজ প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই তারা এসব করার দুঃসাহস দেখাতে পারে।
উক্ত সমাবেশে অারও বক্তব্য দেন, অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রদীপ মার্ডি, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইমন রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী লিটন দাস প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের দাবি করেন, প্রশাসনিক বিষয়ে বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবি পেশ করেন, তাদের দাবিগুলো হল।১। ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।
২। প্রশাসনিক কর্মকান্ডে বহিরাগতদের আযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৩। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৫। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক উন্নয়নে টিএসসিসি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, গতকাল (শুক্রবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, গ্রন্থাগার সহকারী ও ক্যাটালিস্ট ক্যাটাগরিতে ২৭টি পদে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রাবির বিভিন্ন ভবন ও ফটকে তালা লাগিয়েদেন।