সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অঙ্গীকারনামা পাঠালে শ্রাবণ প্রকাশনীর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: অমর একুশে গ্রন্থমেলার নীতিমালা পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম করবে না এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানে এমন বই প্রকাশ করবে না- এ অঙ্গীকারনামা পাঠালে শ্রাবণ প্রকাশনীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে বাংলা একাডেমি।

শুক্রবার একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। একাডেমির পরিচালক ও মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে নির্বাহী পরিষদের সভায় ১২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন।

সম্প্রতি বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্তের বিরোধিতার অভিযোগে শ্রাবণ প্রকাশনীকে গ্রন্থমেলায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীরা বিভিন্ন মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানান।

শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবিন আহসান জানান, আসন্ন অমর একুশে বইমেলায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রকাশনা সংস্থা শ্রাবণের প্রতিনিধি গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমির কাছে আবেদনপত্র সংগ্রহ করার জন্য গিয়েছিলেন। এ সময় বাংলা একাডেমি থেকে তাদের জানানো হয়, দুই বছরের জন্য বইমেলায় অংশ নিতে পারবে না শ্রাবণ প্রকাশনী।

এ বিষয়ে বইমেলা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, গত ১০ নভেম্বর বাংলা একাডেমির কাউন্সিলের সভায় শ্রাবণ প্রকাশনীকে বইমেলায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বইমেলায় বাংলা একাডেমি পরিস্থিতি বিবেচনায় ‘ইসলাম বিতর্ক’ নামের একটি বই নিষিদ্ধ করেছিল। আর একাডেমির সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবিন আহসান; যা বাংলা একাডেমির বইমেলার স্বার্থের পরিপন্থী। এজন্য বৃহত্তর স্বার্থে বাংলা একাডেমির বইমেলায় শ্রাবণ প্রকাশনীকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শ্রাবণ প্রকাশনীকে বইমেলায় নিষিদ্ধের প্রতিবাদে গত ২৭ নভেম্বর বাংলা একাডেমির সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীরা।

মানববন্ধনে মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলায় কোনো প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করার অধিকার রাখে না বাংলা একাডেমি। বইমেলা এ দেশের গণমানুষের মেলা। এখানে লেখক ও পাঠকরা সিদ্ধান্ত নেবেন তারা কোন ধরনের বই প্রকাশ করবেন আর কোন ধরনের বই পাঠ করবেন। তবে হ্যাঁ, রাষ্ট্র যদি মনে করে এটি রাষ্ট্রবিরোধী, কিংবা দেশের জন্য হুমকি, তাহলে রাষ্ট্র এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু বাংলা একাডেমিকে কে এ দায়িত্ব দিয়েছে? বাংলা একাডেমির দায়িত্ব হচ্ছে এর কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তদারকি করা। বাংলা ভাষার উন্নয়নে কাজ করবে তারা। কিন্তু কে কী বলল সেটি শুনে হঠাৎ করে একটি প্রকাশনীকে বইমেলা থেকে নিষিদ্ধ করে দেবে সেটাতো হতে পারে না।

শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবীন আহসান বলছেন, বইমেলার নীতিমালা থাকায় অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে আমার আপত্তি নেই। ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানে এমন কোনো বই শ্রাবণ থেকে প্রকাশিত হয়নি, কখনো হবে না। তবে একজন স্বতন্ত্র লেখক হিসেবে আদর্শিক কারণে বাংলা একাডেমির বাইরে যদি কোনো প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়, আমি অবশ্যই অংশগ্রহণ করব।