শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

থার্টি ফার্স্টে ঢাবিতে সন্ধ্যার মধ্যে ঘরে ফিরতে বলল পুলিশ

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: খ্রিস্টীয় নতুন বছর বরণে থার্টি ফার্স্টের রাতে ঢাকায় উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সমাবেশ করতে দেবে না পুলিশ।

প্রতি বছর পহেলা জানুয়ারির প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অনেকে সমবেত হলেও এবার ওই এলাকার বাসিন্দাদের সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাসায় ফিরতে বলা হয়েছে।

কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় চলাচলেও। ওই এলাকার বাসিন্দাদের রাত ৮টার মধ্যে নিজের এলাকায় ফিরতে বলা হয়েছে। এরপর ঘরে ফিরতে হলে মহাখালীর আমতলী ও কাকলীতে পুলিশি তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে থার্টি ফার্স্ট ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতি জানানোর পাশাপাশি নগরবাসীর প্রতি তাদের নির্দেশনা তুলে ধরেন।

ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, “কারও ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ পুলিশের উদ্দেশ্য নয়, বরং সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে পারেন সেটি নিশ্চিতে কাজ করবে পুলিশ।”

ওই রাতে ঢাকা শহরের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। আমরা অত্যন্ত তৎপর, অত্যন্ত সচেতন। পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।”

নিরাপত্তার স্বার্থে জনগণকে ‘চোখ-কান খেলা রাখার’ পরামর্শ দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “থার্টি ফার্স্ট নাইটে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায় কোনো ধরনের জমায়েত, সমাবেশ বা উৎসব করা যাবে না।”

গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরতদের রাত ৮টার মধ্যে নিজের এলাকায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এর পর ওই এলাকায় ঢুকতে হলে আমতলী ও কাকলি ক্রসিংয়ের পথ খোলা থাকবে। পরিচয় নিশ্চিত সাপেক্ষে প্রবেশ করা যাবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বা স্টিকার ছাড়া কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, “ঢাবির আবাসিক এলাকায় বসবাসরত সবাইকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাসায় ফেরত আসার অনুরোধ করা হচ্ছে। সেখানকার বাসিন্দারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারলে পরে পরিচয় নিশ্চিত করার পর প্রবেশ করতে পারবেন।”

গুলশান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিদের সন্ধ্যার পর ওই সব এলাকায় প্রবেশ না করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাত ৮টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কোনো গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না। গুলশান, বনানী ও বারিধারা থেকে কোনো গাড়ি হাতিরঝিল দিয়ে বের হতে দেওয়া হবে না।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, থার্টি ফার্স্ট সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর সব মদের দোকান ও পাব বন্ধ থাকবে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চলবে। এই সময় লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করা যাবে না।

কেউ হোটেলের ভেতর, ক্লাবে অনুষ্ঠান করতে চাইলে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে বলে জানান তিনি।

ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেলগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও থাকবেন বলে জানান আছাদুজ্জামান মিয়া।