সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

এ কেমন ছন্নছাড়া ক্রিকেট!

SONALISOMOY.COM
ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬
news-image

অনলাইন ডেস্ক:  আগের ম্যাচে তবু বোলিংটা ভালো হয়েছে। কিন্তু আজ? না বোলিং, না ব্যাটিং। নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে যেন ফিরে এল বাংলাদেশের পুরোনো দিন। ছন্নছাড়া ক্রিকেটের প্রদর্শনী বছরের শেষ দিনটাকে করে দিল হতাশার। ২৩৬ রান করে ৮ উইকেটের হার। যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ দুটি সিরিজে নিজেদের মাঠে ‘বাংলাওয়াশের স্বাদ নিয়েছিল বাংলাদেশ, তাদের বিপক্ষেই নিউজিল্যান্ডে এসে পুড়তে হলো হোয়াইটওয়াশের জ্বালায়।

কন্ডিশনের জুজু অন্তত ওয়ানডে সিরিজে ছিল না। ক্রাইস্টচার্চের পর নেলসনেও উইকেট ছিল সহজ ও ব্যাটিং-বান্ধব। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ভাষায়, ‘দেশের উইকেটের মতোই।’ তবে সেখানে বোলারদের জন্যও অনেক কিছুই ছিল। কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ার মতো ‘ব্যাটিং-বান্ধব’ তা ছিল না। তবু বাংলাদেশ কিছুই করতে পারল না। না বল হাতে, না ব্যাট হাতে। গত দেড়-দুই বছরে টানা সাফল্যের মধ্য দিয়ে যেতে থাকা দলটা নিউজিল্যান্ডে এসে যেন ফিরে গেলে পুরোনো দিনে।

টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন মাশরাফি। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েস শুরুটা করলেন দারুণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি হয়ে থাকল তাদের ১০২ রানের জুটিটাই। ম্যাচের বাদবাকি সবই নিউজিল্যান্ডের সাফল্যের গল্প।

প্রায় সাড়ে ৬ বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরে ভাগ্য খুলে গেল নিল ব্রুমের এবং সেটি খুলে দিল বাংলাদেশই। আগের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছিলেন, আজ ৯৭ রান করে প্রত্যাবর্তনের এই সিরিজটাকে করে রাখলেন স্মরণীয়। বাংলাদেশ দলকে ধন্যবাদ দিতে পারেন ব্ল্যাকক্যাপ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও। ভারতের বিপক্ষে গত অক্টোবরে সেঞ্চুরি করার পর কালকের আগে খেলা আট ম্যাচে ফিফটি পেয়েছিলেন মাত্র একটি। ব্রুমের সঙ্গে ১৭৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে অপরাজিত ৯৫ রানের ইনিংস দিয়ে সেই বন্ধ্যাটার যেন ইতি টানলেন উইলিয়ামসন।

অথচ নিউজিল্যান্ডকে ২৩৭ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পর বোলিংয়ের শুরুটা আশাই জাগিয়েছিল। এক ম্যাচ বিশ্রাম কাটিয়ে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমান ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত আনেন ওপেনার টম ল্যাথামকে এলবিডব্লু করে। পরের ওভারের প্রথম বলে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ে মাঠ ছাড়েন আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিল। ১৬ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের ফিরে যাওয়া চাপেই ফেলেছিল স্বাগতিকদের। সেই চাপ আরও বাড়তে পারত ইনিংসের চতুর্থ ওভারে। মোস্তাফিজের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন তখনো শূন্য রানে থাকা ব্রুম। কিন্তু স্লিপে দাঁড়ানো ইমরুল কায়েসের হাতে পড়েও বেরিয়ে গেল বলটা। সেই সঙ্গে ম্যাচটাও কি নয়!

ব্যাটিংয়ের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছিল বাংলাদেশের। স্বাভাবিক বাউন্স নিয়ে ব্যাটে আসছিল বল। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস যেন এমন বোলিংয়ের জন্যই প্রস্তুত ছিলেন। প্রথম দুই ওভার একটু দেখলেন। তৃতীয় ওভারে টিম সাউদিকে দুই বাউন্ডারি তামিমের। দুই ওপেনার মিলে সেখান থেকেই আঁকতে থাকেন সম্ভাবনার ছবি।

কিন্তু ওপেনিং জুটির ১০২ রান এনে দেওয়ার পরও বাংলাদেশ দলের স্কোর বেশি দূর যেতে পারেনি—৯ উইকেটে ২৩৬। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় শুরুর সম্ভাবনা মার খেয়ে গেছে। পরের ৭৭ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে দুই শর নিচে অলআউট হয়ে যাওয়ারও শঙ্কা জেগেছিল একটা সময়ে। নুরুল হাসানের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে করা ব্যাটিংয়ে তা হয়নি।

সাউদির সঙ্গী হয়ে নতুন বলে বোলিংয়ে আসেন সাত বছর পর নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে দলে ফেরা জিশান প্যাটেল। কিন্তু পেসারদের জন্য উইকেটে হালকা মুভমেন্ট আছে ভেবেই হয়তো অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন চতুর্থ ওভারে প্যাটেলের পরিবর্তে নিয়ে আসেন ম্যাট হেনরিকে। তাতেও আটকে রাখা যাচ্ছিল না বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে। গত অক্টোবরে আফগানিস্তান সিরিজে করা সেঞ্চুরির পর প্রথম ফিফটি করলেন তামিম। ইমরুল (৪৪) ফিফটি না পেলেও তামিমের মতো চার বাউন্ডারি তার ইনিংসে, সঙ্গে ছিল জিমি নিশামকে ওয়াইড লং অন দিয়ে গ্যালারিতে পাঠানো বিশাল এক ছক্কা।

ইমরুলের বিদায়ের পরই বিপর্যয়ের শুরু। শর্ট থার্ডম্যানের কাছে দৌড়ে গিয়ে এক হাতে তাঁর দুর্দান্ত ক্যাচটা নিয়েছেন ব্রুম। মাঠ থেকে ক্যাচে কোনো সমস্যা বোঝা না গেলেও টেলিভিশন রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে ব্রুমের হাতে জমার আগেই মাটির স্পর্শ লেগেছিল বলে।

শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী সাব্বির মাত্র ১৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ১৯ রান করে ফেলেছিলেন। হেনরির কাঁধের কাছে উঠে আসা বলে কট বিহাইন্ড হয়ে হঠাৎই থেমে যেতে হয় তাঁকে। সাউদির শর্ট বলের শিকার মাহমুদউল্লাহ উইকেটে থেকেছেন মাত্র ৭ বল। আর সাকিব ৩৫ বল খেলে ফেলেও খুঁজে পাননি ব্যাটের ছন্দ। ১৮ রান করে তাঁর উইকেটটা গেছে শেষ পর্যন্ত রনকির সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে।

তামিমকে নিশাম ফিরিয়েছেন তার আগেই। এলোমেলো শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লাগালেন তামিম। খাঁড়া ক্যাচ উঠে গেলে পয়েন্ট থেকে দৌড়ে এসেও তা নিতে কোনো সমস্যা হয়নি ব্রুমের।

১৭৯ রানে ৭ উইকেট পড়ার পর দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা নুরুল হাসানের ব্যাটই ছিল ভরসার জায়গা। আগের ম্যাচে আট নম্বরে নামা এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যানকে আজ এক ধাপ ওপরে ওঠানো হয়েছিল। ৪৪ রান করে ইনিংসের শেষ ওভারে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন তিনি।

স্যাক্সটন ওভালে আজ সকাল থেকেই চনমনে রোদ। তবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় আকাশে মেঘ জড়ো হলো, টিপ টিপ বৃষ্টিও হলো শেষ দিকে। তাকে কি? সিরিজটা তো হাসতে হাসতেই শেষ করল তারা।