বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯

‘পাঁচ তরুণীকে ঘিরে রেখেছিল বখাটেরা’

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ৫, ২০১৭
news-image
অনলাইন ডেস্ক:

‘পাঁচজন তরুণীকে ঘিরে রেখেছে ২৫ থেকে ৩০ জন বখাটে ছেলে। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাতাল। তারা বিভিন্ন নাম ধরে তরুণীদের জোরে জোরে ডাকছিল। অশালীন অঙ্গভঙ্গি করছিল। আশপাশের সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখছিল। কেউ কেউ প্রতিবাদ করছিল। কিন্তু ছেলেগুলো তাতে কান দিচ্ছিল না।’
ভারতের বেঙ্গালুরুর কাম্মানহালি এলাকায় থার্টি ফার্স্ট নাইটে নারীদের ওপর যৌন হয়রানির ঘটনা প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই বলছিলেন এমসি আব্বাস। আজ বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক খবরে জানা যায়, আব্বাস সে সময় সেখানকার একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।
হোটেলের কাছেই পার্ক করে রাখা ছিল আব্বাসের গাড়ি। হোটেল থেকে বের হয়ে গাড়ি পর্যন্ত তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময়ই চোখে পড়ে তরুণীদের ওপর যৌন হয়রানির দৃশ্য।
আব্বাস বলেন, রেসিডেন্সি রোডের হোটেল থেকে বের হওয়া মাত্র তিনি নারীদের চিৎকার শোনেন। হিল জুতো হাতে নিয়ে তাঁদের দৌড়াতে দেখেন। ব্রিগেড রোড জংশন থেকে তাঁরা বেঙ্গালুরুর কেন্দ্রে মায়ো হলের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি হোটেলের গেট থেকে বের হন। বাইরে তখন রীতিমতো গোলমাল চলছে। এর মধ্যেই চোখে পড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক পাঁচজন তরুণী ও তিনজন পুরুষকে ঘিরে রেখেছে। বখাটে ধরনের ছেলেগুলো তরুণীদের বিভিন্ন নাম ধরে জোরে জোরে ডাকছিল। তরুণীদের সঙ্গে অসম্মানজনকভাবে কথা বলছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে মনে হচ্ছিল মাতাল।
সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের ভেতরে ঢুকে যান আব্বাস। হোটেলের দুজন নিরাপত্তাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আবার ঘটনাস্থলে যান। নিরাপত্তাকর্মী ও আব্বাস চিৎকার করে ছেলেদের সতর্ক করেন। কথা না শুনলে পুলিশ ডাকবেন বলে ভয় দেখান। এতে ছেলেগুলো কিছুটা দমে যায়। এমন ভাব করতে থাকে যেন তারা এতক্ষণ কিছুই করেনি।

ছেলেগুলোকে নজরে রাখতে বলে আব্বাস তরুণীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা সবাই বাড়ি ফিরে যেতে চাইছিলেন। আব্বাস বলেন, ক্যাব ভাড়া করে তিনি তাঁদের বাড়ি পাঠানোর বন্দোবস্ত করবেন। তরুণীরা জানান, তাঁরা একটি ক্যাব ভাড়া করেছে। সেটিতে করেই বাড়ি ফিরবে।

আব্বাস আরও বলেন, ‘কেউই তরুণীদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। আমি কোনো সুপারম্যান বা নায়ক নই। একা ২৫ থেকে ৩০ জনকে শায়েস্তা করাও সম্ভব ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি সাধ্যমতো প্রতিরোধের চেষ্টা করেছি। সবাই এভাবে এগিয়ে এলে নারীদের প্রতি সহিসংতা কমে যেত।’

আব্বাসের মতে, থার্টি ফার্স্ট নাইটে ব্রিগেড রোডের কাছে ভিড় জমানো নিষিদ্ধ করা উচিত। নারীদের নিরাপত্তায় পুলিশকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো প্রস্তুতি তাদের থাকা দরকার।

হোটেলের নিরাপত্তাকর্মী আইয়ুব খান বলেন, নিরাপত্তাকর্মীর পোশাক পরে থাকায় ছেলেগুলো তাঁদের দেখে ভয় পেয়েছিল। এটা দুঃখজনক যে তাঁরা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। সেখানে কোনো পুলিশও ছিল না। এসব ব্যাপারে পুলিশের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

গত ৩১ ডিসেম্বর নববর্ষের রাতে বেঙ্গালুরুর এমজি রোডে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। সেখানে কয়েকজন তরুণী ও নারীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাহায্যের জন্য চিৎকার করে কারও সাড়া পাননি নারীরা। সিসিটিভির ফুটেজে ওই রাতের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। শ্লীলতাহানির প্রমাণ পাওয়ায় অবশেষে অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ।