বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল: মেয়র আনিসুল হক

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ৫, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদ:

ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধসে পড়া গুলশান-১ নম্বরের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ডিএনসিসির তত্ত্বাবধানে থাকা এমন আরও কয়েকটি মার্কেট ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। সেগুলোতেও যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার গুলশানে ডিএনসিসির নতুন নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আনিসুল হক এসব কথা বলেন। ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ডিএনসিসির বক্তব্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, ১৯৮৩ সালে গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়। তখন এটি দোতলা ছিল। ২০০১ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নির্মাণের কার্যক্রম নেওয়া হয়। দোকান বরাদ্দের জন্য সালামিও নেওয়া হয়। পরে ২০০২ সালে মার্কেটটিতে ফাটল দেখা দিলে লোহার প্রুফিং করানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে মার্কেটে মোট ৯০টি অবৈধ দোকান নির্মাণ করা হয়। দুটি খাবারের হোটেল নির্মাণ করা হয়। অবৈধভাবে গ্যাসের সিলিন্ডারের মাধ্যমে নিয়মিত রান্না করা হতো। এসব অবৈধ স্থাপনা মার্কেটকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করেছে। ২০১১ সালে কাচা মার্কেটের ভেতরের অস্থায়ী দোকানের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। এসব অস্থায়ী বরাদ্দ মার্কেটের হাঁটার পথ, খোলা জায়গায় হওয়াতে মার্কেটে আলো-বাতাস প্রবেশে বিঘ্ন ঘটে।
মেয়র বলেন, বুয়েটের পরীক্ষায় ২০০৯ সালে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে বলা হয়। মার্কেটের ভার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশন ব্যবসায়ীদের মার্কেটের ভার কমাতে অনুরোধ জানালেও তারা আমলে নেননি। এ সময় মেয়র তাঁর কথার স্বপক্ষে নথিপত্রের অনুলিপি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন লাগার পর সিটি করপোরেশনকে নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা কথা বলা হচ্ছে। সেসব ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন বলেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত দুদিন ধরে ডিএনসিসিকে ঘিরে কিছু কিছু মন্তব্যের জের ও কিছু আপেক্ষিক অস্পষ্টতার জন্ম হয়েছে। এটি পরিষ্কার করা আমাদের দায়িত্ব।’
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ব্যবসায়ীরা নাশকতা বলছেন—এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র বলেন, ‘তদন্ত হচ্ছে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ফলাফলের জন্য দয়া করে অপেক্ষা করুন।’ এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘নাশকতা নয়, ৯৯ শতাংশ দুর্ঘটনার সম্ভাবনা’ মেয়রের এমন মন্তব্য তদন্তকে প্রভাবিত করবে কি না। এর জবাবে মেয়র বলেন, ‘৯৯ শতাংশ দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বলাটা ভুল হয়েছিল, এটা বলতে বললে বলব। তবে আমাদের কাছে মার্কেটটি সম্পর্কে যে তথ্য আছে তাতে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যে কোনো সময় এ রকম দুর্ঘটনা ঘটতেই পারত।’

সংবাদ সম্মেলনে গুলশান কাঁচা মার্কেট, পাকা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কাঁচা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দিতে চাইলে মেয়র তাদের সংবাদ সম্মেলনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এর আগে গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেট পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ডকে অনেকেই নাশকতা বলছেন। এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে, তা শেষ হওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না।’