শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি উচ্ছেদ

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ৬, ২০১৭
news-image

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড়ি বনে গড়ে তোলা অবৈধ ঝুপড়ি ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বনকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে একটি শরণার্থী ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা।

বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর তিনটি নিরাপত্তা চৌকিতে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ হামলা হয়। দেশটির সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। এর আগেও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে রয়েছে।

তারা কুতুপালংয়ের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্প ছাড়াও এর আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে ঘর তুলছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

বন কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের দেড়-দুই কিলোমিটার দক্ষিণে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ঘরবাড়ি তৈরি করে রোহিঙ্গারা। বনকর্মীরা অভিযান চালিয়ে অন্তত ৮০টি ঝুপড়ি ঘর গুঁড়িয়ে দেয়।

“অভিযান শেষে ফিরে আসার সময় কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান নেওয়া দুই শতাধিক রোহিঙ্গা বনকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষার্থে বনকর্মীরা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় বন কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।”

আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন বলে জানান বন কর্মকর্তা মনিরুল।

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগেও কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন পালংখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় রোহিঙ্গাদের বসতি উচ্ছেদ করতে গিয়ে বনকর্মীরা হামলার শিকার হন।

ওই এলাকার দু-একজন জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় রোহিঙ্গারা বসতি গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানান বন কর্মকর্তা মনিরুল।

তিনি বলেন, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বখতিয়ার আহমদ ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আবছার শরণার্থীদের বসতি স্থাপনে সহযোগিতা করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে।

হামলায় আহত উখিয়া সদর বন বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ১৯৯৭-৯৮ সাল থেকে ওই এলাকায় পরিকল্পিত বন উন্নয়নে কাজ করছে বন বিভাগ।

“গড়ে তোলা বন থেকে রোহিঙ্গাদের ঝুপড়িঘর উচ্ছেদ করে ফেরার পথে কয়েকশ রোহিঙ্গা বনকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।”

এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে উখিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের ঘটনা শুনেছেন জানিয়ে বলেন, অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।