মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

সাংসদদের নিরাপত্তায় বিশেষ পদক্ষেপ

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ৬, ২০১৭
news-image

রাজশাহী প্রতিনিধি:

জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত বৃহত্তর রাজশাহীর তিন জেলার সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এ বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ঊর্ধ্বতন সূত্র বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধায় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য লিটন খুন হওয়ার পর জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত ২২ জেলার সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিদের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের সার্বক্ষণিক দেহরক্ষীর পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশি তৎপরতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে সংসদ সদস্যের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।

সূত্র মতে, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো হচ্ছে- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, পাবনা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, ঝিনাইদহ, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও নীলফামারী।

এ ব্যাপারে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, এক সময় বাগমারা সর্বহারা ও জেএমবির ঘাঁটি ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জেএমবি ও সর্বহারা দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এখন বাগমারায় বিভিন্ন দল, মত ও ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছেন। এরপরও কোনো গোষ্ঠী যদি এ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার পরিকল্পনা করে, তবে তাদের প্রতিরোধ করা হবে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তিনি।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম আখতার জাহান বলেন, আওয়ামী মাটি ও মানুষের রাজনীতি করে। সব দেশেই উন্নয়নবিরোধী নাশকতাকারীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। অতীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অপচেষ্টা রুখে দিয়েছেন।  তারপরও পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের সতর্কতামূলক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী বলেন, শিবগঞ্জ-কানসাটের মাটিতে জামায়াত-শিবির আর তাণ্ডব চালাতে পারবে না। সেই চেষ্টা করলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জীবনবাজি রেখে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস বলেন, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেন। আর বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা ভয়ে তোয়াক্কা করেন না। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাবেন।

একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান নাটোর সদরের সংসদ সদস্য শাফিকুল ইসলাম শিমুল। তিনি বলেন, জামায়াত-বিএনপি একসময় নাটোর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। কোনো গোষ্ঠী যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশিদ হোসেন বলেন, জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। তারপরও গাইবান্ধায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।