বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

কাল সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভ: রিজভী

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ৭, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সারা দেশে আগামীকাল রোববার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসের সমাবেশ করতে না দেওয়া এবং ৫ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি দিয়েছে দলটি।

আজ শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামান দেখা গেছে। এর মধ্যেই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ ঘোষণা দেন। দেশের সব জেলা ও মহানগরে এবং রাজধানী ঢাকার থানায় থানায় এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তিনি জানান। কার্যালয়ের বাইরে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি।

কার্যালয়ের সামনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: জাহিদুল করিমসংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজ কর্মসূচি করতে না দেওয়ায় আবারও প্রমাণিত হলো, সরকার গণতন্ত্রের সব দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়েছে। নাগরিক-স্বাধীনতার গলায় ফাঁসির দড়ি লটকে দিয়েছে। সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করে যখন যেমন খুশি, বিরোধী দলকে লাগাতারভাবে দমন করে যাচ্ছে।’

বিএনপি নেতা আরও বলেন, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকে জলকামানসহ ভারী-মাঝারি অস্ত্রসজ্জিত কয়েক প্লাটুন পুলিশ-র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। মনে হয়, সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি বিরাজমান। সরকার পুলিশকেই ক্ষমতার উৎস মনে করে।

নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শিবলী নোমান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সব সময় জনস্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। কেউ যাতে অননুমোদিত সমাবেশ করে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করতে না পারে, সে জন্য আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’

এর আগে সকালে পুলিশ মোতায়েনের কারণ জানতে চাইলে রমনা থানার পরিদর্শক কাজী শাহীদুজ্জামান বলেন, ‘এখানে বিএনপি একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে, বিএনপির দুই গ্রুপে গোলমাল হতে পারে। জনস্বার্থ রক্ষায় আমরা এখানে এসেছি।’ বিএনপির কোন দুই গ্রুপে গোলমাল হতে পারে তা তিনি জানাননি।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের অবস্থান। ছবি: জাহিদুল করিমবিএনপি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ ধরনের বক্তব্য উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, ষড়যন্ত্রটা কী ধরনের, এর প্রকরণ কী, তা জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, উর্দি পরা কেউ আর খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসাবে না। খুব সুন্দর কথা। কিন্তু আমরা তো বারবার দেখেছি, উর্দি পরাদের আপনারাই সমর্থন করেছেন। উর্দির কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি আজ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিএনপি পায়নি। এ ক্ষেত্রে দলটি নয়াপল্টনে হলেও ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসের এই সমাবেশ করতে চেয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত বা ভাষ্য পাওয়া যায়নি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বিকেলে ভাসানী মিলনায়তনে দলের এক যৌথসভায় নয়াপল্টনে হলেও সমাবেশ করার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ও এর শরিকেরা। এরপর থেকে দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করছে বিএনপি।