রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বাবার কন্ঠে ছেলের লেখা গান

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ১১, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাটির মায়ায় গড়া হৃদয়, প্রকৃতির ছাপ বুকে, দ্বীব্যজ্ঞানের ধনী ওরা সদাই থাকে সুখে। এমনি হয়ে থাকে বাউলেদর বেলাই। বাউলরা জ্ঞান সম্পদের পাগল। অর্থ সম্পদ তাদের কাছে যেন অনর্থক। বর্তমান প্রতিযোগীতার আধুনিক ইট পাথরের যুগে সেই সব বাউলেদর পড়েছে ঢের অভাব। এই পরিবেশে বাউল ও ফোক জগতকে অন্তরে পুষে রেখে আধুনিকের সাথে তাল মিলিয়ে চলছেন যারা তাদের মধ্যে গীতিকার সঞ্জয় শীলের নাম না বললেই নয়। বাউল ও ফোক গানের লেখক হিসাবে ইতিমধ্যে ছড়িয়েছে তার নাম। ১৯৮০ সালের ৩ মে মামা বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জের আগলা চৌকিঘাটা নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন সঞ্জয়শীল। বাবা বিমলশীল ও মাতা জোৎসনা রানী। মাদারীপুর, শিবচর, শিরুয়াইল গ্রামের পৈত্রিক ভিটায় তার বেড়ে উঠা। তার বাবা একজন বাউল শিল্পী। ছোট বেলা থেকেই ছিলেন গান পাগল। পড়াশোনার জানাশোনা বেশি হয়নি তার। কিন্তু জ্ঞানের জানা থেমে থাকেনি।
তাই সার্টিফিকেট না পাওয়া বাস্তবতার জ্ঞানী সঞ্জয়শীল প্রথম ২০০০ সালে তার পরিচয় হয় একজন গীতিকার হিসাবে। প্রকাশ হয় তার কথা ও সুরে ‘আমি যে একা’ নামের একটি সলো অ্যালবাম। অ্যালবামটির শিল্পী হৃদয় হাসান ও সঙ্গীত খোকন এবং প্রকাশিত হয় মিউজিক ওয়ার্ড থেকে। আর তাকে এই অ্যালবামের জগতে আসতে সাহায্য করে প্রভা কোম্পানির কর্ণধার সরদার মনিরুজ্জামান।

তিনি তার গুরু হিসাবে শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করেন যার নাম তিনি হলেন হারুন রাজা। সঞ্জয়শীল বলেন আমার গানের গুরু হারুন রাজা। এরপর ২০১০ সালে গোলাম সরোয়ারের সুর ও সঙ্গীতে প্রকাশিত হয় তার আর একটি মিক্সড অ্যালবাম ‘ভাবের মানুষ’। গোলাম সরোয়ারের সুর ও সঙ্গীতে ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয় আরও একটি মিক্সড অ্যালবাম ‘প্রেমকুঞ্জ’।

এখানে শিল্পী ছিলেন কিরনচন্দ্র রায়, রিংকু ও চন্দনা মজুমদার সহ আরও অনেকে। আর এই অ্যালবামিটই গীতিকার সঞ্জয়শীলের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে এনে দেয় তার স্বপ্নের সাফল্য, বলে মনে করেন সঞ্জয়শীল। তারপর ২০১৫ সালেই গোলাম সরোয়ার ও সুমন কল্যাণের সুর ও সঙ্গীতে বের হয় তার আরও একটি এ্যালবাম ‘তাল বেতাল’। এরপর থেকে নিয়মিত ভাবেই চলছে তার লেখা গানের প্রকাশনা। ২০১৬ সালের প্রথম ভাগে এসেছে তার মিক্সড অ্যালবাম ‘জীবন গাড়ী’। সুর ও সঙ্গীত করেন গোলাম সরোয়ার, এ এইচ জীবন ও এস রুহল।শিল্পী হিসাবে ছিলেন কিশোর পলাশ ও ইয়াসিন সহ আরও অনেকে।

গাড়ির চাকা না থামতেই পরপরই আসে আরও একটি মিক্সড অ্যালবাম ‘মরণ গাড়ী’। এখানে কন্ঠ দিয়েছেন সনামধন্য শিল্পী কিশোর পলাশ, রাজিব শাহ, পূণ্য মিলন, ইয়াসিন ও এফ বি এম উজ্বল, দুখু আরমান সহ অনেকে। সুর ও সঙ্গীত করেছেন এস রুহল, এ এইচ জীবন ও মোবারক হোসেন।
বর্তমানে চলছে তার আরও তিনটি- দুইটি মিক্সড ‘উপার থেকে, বিচার ‘ ও একটি সলো এ্যালবাম ‘দরদী আমার’ এর কাজ। মিক্সড অ্যালবামটিতে কন্ঠ দিচ্ছেন তার বাবা বিমল শীল, কিশোর পলাশ,রাজিব শাহ পূণ্য মিলন ও ইয়াসিন, দুখু আরমান সহ আরও কয়েক জন শিল্পী এবং সুর আবিগি জাকির এবং সুর ও সঙ্গীত এ এইচ জীবন, এস রুহল। সলো অ্যালবামটিতে কন্ঠ দিচ্ছেন শিল্পী রিংকু, সুর ও সঙ্গীত গোলাম সরোয়ার।

সদা হাস্যউজ্জল এই হালের গীতিকার এগিয়ে চলেছে তার আপন গতিতে। তার আজকের এই অবস্থান তার দাদু ঈশ্বরগান্ধীলাল শীলের স্বপ্ন ছিলো বলে জানান সঞ্জয়শীল। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু দাদু দেখে যেতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন গীতিকার সঞ্জয়শীল। সকলের আর্শিবাদ প্রত্যাশা করে তিনি বলেন আমি যেন আপনাদের সকলের মাঝে জনম জনম বেঁচে থাকতে পারি। আমরাও চায় তার আশার ফুল ফুটুক এবং সফলতায় ভরে উঠুক তার আগামীর পথ চলা।