শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

শুরু হচ্ছে ‘মুমিনুলের ক্রিকেট’

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ১১, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে নিউজিল্যান্ডে এসেও ঘুরেছেন শহরে শহরে। ক্রাইস্টচার্চ দিয়ে শুরু। এরপর নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মঙ্গানুই হয়ে এখন ওয়েলিংটনে। মুমিনুল হক ‘টেস্ট খেলোয়াড়’। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাই দলের সঙ্গে থেকেও থাকলেন শুধু দর্শক হয়ে।

অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে অবশেষে। কাল থেকে বেসিন রিজার্ভে শুরু হচ্ছে মুমিনুলের ক্রিকেট, বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্ট। একাদশ কী হচ্ছে না জেনেও অনুমান করা যায়—ওয়েলিংটন টেস্টের বাংলাদেশ দলে থাকছেন। ব্যাটিং করবেন তিন নম্বরে।

ওয়েলিংটনে আসার আগের রাতে তাউরাঙ্গার টিম হোটেলমুখী ডাইভ ক্রিসেন্ট সড়ক দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে টুকটাক কথা হচ্ছিল মুমিনুলের সঙ্গে। এই যে দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন; একই হোটেলে থাকছেন, একই বাসে চড়ছেন…কিন্তু খেলছেন না। কেমন লাগে? স্মিত হেসে মুমিনুলের সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘কেমন আবার লাগবে। না খেললে কারও ভালো লাগে…!’

দলের সঙ্গে থেকেও খেলতে না পারায় আফসোস আছে, তবে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই মুমিনুলের, ‘এ নিয়ে বলার কিছু নেই। আমিও চাই আগে টেস্টে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে। টেস্টে নিয়মিত ভালো খেলতে পারলে হয়তো অন্য খেলায়ও আমাকে বিবেচনা করা হবে।’

গত বিশ্বকাপে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলে দুই ম্যাচে করেছেন ৩ আর ১। টেস্টেও যে খুব বলার মতো পারফরম্যান্স আছে তা নয়। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ পাঁচ টেস্টে আট ইনিংস ব্যাট করেছেন। রান করেছেন ১৭০, ফিফটি মাত্র একটি। মুমিনুল নিজেও এই পারফরম্যান্সের পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তাড়না।

কিন্তু নিউজিল্যান্ড সিরিজে আরও কঠিন পরীক্ষায়ই পড়ার কথা তাঁর। বেসিন রিজার্ভের উইকেট যে রকম ‘বোটানিক্যাল গার্ডেনে’র মতো সবুজ চেহারা নিয়ে অপেক্ষা করছে, টেস্টেও সেটা থাকলে বিপদই আছে বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের। টেস্টের চেয়ে ওয়ানডের উইকেট অনেক সহজ থাকলেও মাঠের বাইরে বসে মুমিনুলের পর্যবেক্ষণ, ‘যা বুঝলাম, এখানে উইকেটে নেমেই রান করা যায় না। সেটা তো আরও করা যাবে না। এখানে যে ধরনের বাউন্সার আসে, আমরা সেগুলোতে অভ্যস্ত নই। গিয়েই মারা যাবে না। অপেক্ষা করতে হবে হবে।’

নিউজিল্যান্ডে এর আগে কখনো খেলেননি মুমিনুল। এবার আগে থেকেই দলের সঙ্গে থেকে তাই তাঁর লাভই হয়েছে, ‘জাতীয় দলের বাইরে থাকা আর জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। টেস্টের আগে দলের সঙ্গে থাকায় আমার অনেক সুবিধা হয়েছে।’ তার একটা অবশ্যই এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।

ওয়েলিংটনের বাতাস প্রথম দিন যে সন্ধ্যায় যে অভিজ্ঞতা দিয়েছে, সেটা মুমিনুলের মতো ছোটখাটো গড়নের ক্রিকেটারকে শঙ্কার মধ্যেই ফেলে দেওয়ার কথা। তার ওপর সেদিনই সন্ধ্যায় টিম হোটেলের সামনে চামড়ার জ্যাকেট পরেও হালকা কাঁপতে থাকা মুমিনুলকে ওয়েলিংটনে নিজের আগের অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল। শ্যাডো স্ট্যান্স নিয়ে বলছিলেন, ‘২০০৮-এর কথা শোন। ব্যাটিংয়ে গিয়ে সবে দাঁড়িয়েছি। অমনি বাতাসের ধাক্কায় আমি এইভাবে সামনের দিকে চলে গেলাম। স্থির থাকতে পারছিলাম না।’

তামিমের কথা শুনে আর বাতাসে নড়ে যাওয়ার অভিনয় দেখে একটু কি ভয় পেলেন মুমিনুল? তাঁর সদা নির্বিকার চেহারায় কিন্তু সে রকম কোনো কিছু খুঁজে পাওয়া গেল না!