রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

ডাবল সেঞ্চুরিতে সাকিব টপকালেন তামিম-মুশফিককে

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ১৩, ২০১৭
news-image

স্পোর্টস রিপোর্টার :
ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ না কি বোলারদের স্বর্গরাজ্য। বড় বড় দলগুলোও এখানে এসে খাবি খায়। মাঠের সবুজ ঘাসের চাদর ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ব্যাটসম্যানদের বুকে। সঙ্গে ঝোরালো বাতাস আর কনকনে ঠাণ্ডা। বৃষ্টির ঝাপটাও আছে কিছু কিছু। সব মিলিয়ে পেসারদের জন্য আদর্শ উইকেট।

এমন পরিস্থিতিতে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয়াই যে কোনো দলের জন্য স্বাভাবিক। কেন উইলিয়ামসন যখন ফিল্ডিং নিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বুকে দুরু দুরু করছিল; কিন্তু তামিম ইকবালের ঝড়ো ব্যাটে সেই ভয়ডর সব উড়ে গেলো। মুমিনুলের ব্যাটে ফিরে আসলো আত্মবিশ্বাস।

এরপর ভয়ডরহীন আত্মবিশ্বাস নিয়ে সাকিব আর মুশফিক দেখালেন বেসিন রিজার্ভের ইতিহাসে সেরা ব্যাটিংয়ের পরাকাষ্ট্রা। জোড়া সেঞ্চুরি তো করলেনই। একই সঙ্গে নিজের সেঞ্চুরিটাকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দান করলেন সাকিব আল হাসান। মুশফিকুর রহীম আর তামিম ইকবালের পর তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন সাকিব আল হাসান।

প্রথম দিনই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন সাকিব আল হাসান। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি উইকেট ছাড়েন ৫ রান নিয়ে। দ্বিতীয় দিন মাঠে নেমে মুমিনুল দ্রুত আউট হয়ে গেলেও এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে যান সাকিব। সঙ্গে মুশফিক।

এ দু’জনের ৩৫৯ রানের অবিশ্বাস্য জুটি রীতিমত রূপকথার জন্ম দিয়েছে বেসিন রিজার্ভে। ১৫৯ রান করে মুশফিক আউট হয়ে গেলেও নিজের ইনিংসটাকে ক্যারিয়ারে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করলেন সাকিব। টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, নেইল ওয়েগনার, মিচেল স্যান্টনার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম- কিউই কন্ডিশনে ভয়ঙ্কর সব বোলার। এদের মোকাবেলা করে কিছুদিন আগেও নাকানি-চুবানি খেয়ে গেছে পাকিস্তান। যারা গত বছর এক সময় টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠে এসেছিল।

বেশ কয়েকবার জীবন পেয়ে অবশ্য এই রেকর্ড গড়তে সক্ষম হন সাকিব। ৪ রানের মাথায়ই অবশ্য জীবন পেয়েছিলেন তিনি। প্রথম দিন যদি তার ক্যাচটি মিচেল স্যান্টনারের হাত থেকে না পড়তো, তাহলে হয়তো এই মহাকাব্য লেখা হতো না। পরের ওভারেই নিশ্চিত রানআউটের হাত থেকে বেঁচেছিলেন। সাকিব যখন ৮৭ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন, তখন টিম সাউদির বলে কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন উঠেছিল। ১৩৭ রানের মাথায় নেইল ওয়েগনারের বলে উইকেটের পেছনে সাকিবের ক্যাচ নেন বিজে ওয়াটলিং। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেলো ক্যাচ ধরে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন ওয়াটলিং। ১৮৯ রানে আরও একবার তার ক্যাচ ছেড়েছিল রস টেলর।

৮৬ বলে গড়েন হাফ সেঞ্চুরি। এরপর ১৫০ বল গড়েন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ১৯১ বলে পৌঁছান ১৫০ রানের মাইলফলকে। সব শেষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সাকিব পৌছে যান ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলকে। ২৫৩ বলে ৩০টি বাউন্ডারির সাহায্যে পৌঁছান ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলকে।

ডাবল সেঞ্চুরি করার পর থেমে থাকলেন না। ছাড়িয়ে গেলেন বন্ধু তামিম ইকবালকেও। বাংলাদেশের হয়ে এতদিন টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রানের ইনিংস ছিল তামিমের, ২০৬ রান। সাকিব সেই রান টপকে চলে গেলেন আরও ওপরে। সবশেষে আউট হলেন ২১৭ রান করে। ২৭৬ বল খেলে ৩১টি বাউন্ডারিতে সাজান তার নিজের ইনিংস।