বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯

আগামী দুবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ১৪, ২০১৭
news-image

কুয়াকাটা প্রতিনিধি:
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী দুই বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ। তবে আমাদের স্বপ্ন পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। যা সম্ভবপর বলে আমার মনে হয়।

শনিবার পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে তিন দিনব্যাপী বিচ কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে আমরা প্রবৃদ্ধির ৬ শতাংশের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে ৭ শতাংশে উত্তীর্ণ হয়েছি। বর্তমান সরকারের এই মেয়াদে অর্থাৎ আগামী দুই বছরে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে। এর মানে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং আগামীতেও হবে। দেশের কোনো গোষ্ঠী পিছিয়ে থাকবে না।

সরকারের নীতিমালায় কেউ পিছিয়ে থাকতে পারে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। গত ছয় বছরে দারিদ্র্যসীমা ২২ শতাংশে নেমে এসেছে, সবচেয়ে গরিবের সংখ্যা দ্রুত হারে কমিয়ে আনা হচ্ছে। বৈষম্য নিরসনে বাংলাদেশ একটা অনন্য দেশ। অতি দারিদ্র্য ১০ শতাংশের কাছাকাছি।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের পৃথিবীতে কোনো দরিদ্র থাকবে না বলে অঙ্গীকার করা হয়েছে। আমাদের দেশে দারিদ্র্যের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি। সাড়ে চার বছরের মধ্যে সবাইকে দারিদ্র্যসীমার মধ্যে থেকে বের করে আনতে হবে। চ্যালেঞ্জটা অনেক বড় হলেও দেশের মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান। এজন্য পড়ালেখা না জানলেও কোনো প্রযুক্তি হাতে তুলে দিলে তা গ্রহণ করে নেয়।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে ১১০ লাখ টন খাদ্য উৎপাদন হতো। এখন আমরা ৩৮০ লাখ টন খাদ্য উৎপাদন করি। গার্মেন্টস রপ্তানি ৩৪০ মিলিয়ন ডলারে উত্তীর্ণ হয়েছে।

কুয়াকাটার উন্নয়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করতে হবে। বর্তমানে কুয়াকাটার যে রূপ রয়েছে তাতে এখানে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন সহজ হবে। খুব দ্রুত মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী কাজ শুরু করা হবে। আমি আপনাদের দাবিগুলো শুনলাম। আমি কুয়াকাটার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সবার আগে গুরুত্ব দেই।  এজন্য বিভিন্ন সুবিধাসহ অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।  আশা করছি আগামী দুই বছরে কুয়াকাটার অন্য একটি দৃশ্য দেখতে পাবেন। আজ বিচ কার্নিভাল উদ্বোধন হলো। তিন দিনব্যাপী চলবে। এখন থেকে প্রতিবছর বিচ কার্নিভাল হবে।

কুয়াকাটায় বিমানবন্দর : অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী  রাশেদ খান মেনন বলেন, পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর চালু হলে এ অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসাব ঘটবে।  কুয়াকাটায় ও পায়রা বন্দরের কাছে বিমানবন্দর করার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি লেখা হয়েছে। পর্যটন খাত আয়বর্ধনকারী খাত। কুয়াকাটায় যে হারে পর্য্টনের বিস্তার হয়েছে তাতে এখানেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে কুয়াকাটার ফাতরার চর হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার।

পায়রা হবে সিঙ্গাপুর : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ আ স ম ফিরোজ বলেছেন, কুয়াকাটা এমন একটি সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্য অস্ত ও সূর্য উদয় দেখা যায়, যা পৃথিবীতে বিরল। অন্যদিকে পায়রা বন্দরকে সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত ও মানসম্মতভাবে তৈরি করা হবে। কলাপাড়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু হলে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার দেশি-বিদেশি পর্য্টক এখানে আসবে। সেজন্য পর্য্টন সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, এজন্য এনবিআরকে বলব করের বোঝা কমাতে হবে। এখানে বিনিয়োগের আকর্ষণ সৃষ্টি করতে হবে। আগামী ১০ বছর কীভাবে বিনিয়োগ করল সে বিষয়টি  খেয়াল না করে সুবিধা দেওয়া দরকার।

সমুদ্র সৈকত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা : জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, জাতীয় পার্টি উন্নয়নের অংশীদার হয়ে সবসময় পাশে আছে। কুয়াকাটার উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার আগে সমুদ্র সৈকত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেন।মাস্টার প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।

রাজস্ব আদায়ের অপার সম্ভাবনা : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলের এই অংশে পর্য্টনের অপার সম্ভাবনা দেখছি। পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর চালু হলে রাজস্ব আরহণের বিপুল সম্ভাবনা দেখছি। অর্থমন্ত্রী কুয়াকাটায় নিজে এসেছেন। আশা করছি পায়রা বন্দর দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান তালুকদার, আ খ ম জাহাঙ্গীর, শওকত হাসানুর রহমান রিয়ন, স্থানীয় সরকার সচিব আব্দুল মালেক, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রমুখ।