মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির লোকবক্তৃতায় এডকম লিঃ এর চেয়ারম্যান গীতিআরা সাফিয়া চৌধূরী

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ১৪, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদ:
শঠতা, কারচুপি, দুর্নীতি ও অনিয়মের ধূর্ত পন্থা পরিহার করে কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে যারা নিজেদেরকে তিল তিল করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন, সেই সব উদ্যোক্তাদের মুখ থেকে তাদের পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী জীবনের কথা শোনার ব্যবস্থা করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটি (ডিআইইউ)।

ডিআইইউ’র ইনোভেশন এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এ উপলক্ষ্যে দেশের শিল্পখাতের মোট ১২ জন সফল উদ্যোক্তাকে নিয়ে আয়োজন করেছে “উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক ডিআইইউ ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া বক্তৃতা মালা” ( DIU Industry Academia Lecture Series on Entrepreneurship Development ) ।

১২ পর্বের লোকবক্তৃতামালার ৬ষ্ঠ পর্ব অনুষ্ঠিত হয় আজ ১৪ জানুয়ারি ২০১৭। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটি’র মিলনায়তনে আয়োজিত এ লোকবক্তৃতামালার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপনী সংস্থা এডকম লিঃ চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গীতি আরা সাফিয়া  চৌধূরী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটির ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান ও ইনোভেশন এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের পরিচালক মোঃ আবু তাহের। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ^বিদ্যালয়ের পরিচালক (স্টুডেন্ট এফেয়ার্স) সৈয়দ মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে এডকম লিঃ চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গীতি আরা সাফিয়া  চৌধূরী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সবশেষে বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান এডকম লিঃ চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গীতি আরা সাফিয়া  চৌধূরীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।   

এডকম লিঃ চেয়ারম্যান গীতি আরা সাফিয়া চৌধূরী তার বক্তৃতায় দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আজকের এ সাফল্যের শিখরে উঠে আসার কাহিনী শিক্ষার্থীদের  সামনে তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নীতি-নৈতিকতা, সততা ও মানসিক সুশৃঙ্খলতা শুধুমাত্র উপাসনা কক্ষের বিষয় নয় বরং জীবনের সকল ক্ষেত্রে, জীবন –জীবিকা এবং আয়-উপার্জনের ক্ষেত্রেও এসবকে মেনে চলতে হবে।

শিক্ষার্থীদেরকে  পুস্তক থেকে অর্জিত জ্ঞানের পাশাপাশি  বাস্তবে প্রয়োগপযোগী দক্ষতাও অর্জন করতে হবে, যাতে নিযোগকারী  উদ্যোক্তারা বলতে না পারেন যে তারা উপযুক্ত লোক পাচ্ছেন না। এ বাস্তবতাকে বিচেনায়  নিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটি কারিক্যুলামে  প্রয়োগিক শিক্ষাকে যুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার সাথে যুক্ত করে তাদের হাতে- কলমে কাজ শিখিয়ে প্রকৃতপক্ষেই  কর্মক্ষম হয়ে উঠার সুযোগ  করে দিচ্ছে। এ জন্য আমি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটিকে সাধুবাদ জানাই এবং  দেশের অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়গুলোকেও এ পথ অনুসরনের আহবান জানান।

আমন্ত্রিত এই ১২ জন সফল উদ্যোক্তার বক্তৃতাসমূহ নিয়ে পরবর্তিতে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ব্যবসা, অথনীতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের শিক্ষার্থীদের জন্য রেফারেন্স পুস্তক হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করবে আশা করা যায়। এ পুস্তক শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অধিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবতার আলোকে বুঝতে ও শিখতে সাহায্য করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।  উল্লিখিত ১২জন উদ্যোক্তার উপর ডিআইইউ থেকে ১২টি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটি আশা করছে যে, এ লোকবক্তৃতামালা নতুন প্রজন্মের সৎ, শিক্ষিত ও মেধাবী উদ্যোক্তাদেরকে সাহস, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য ও অনুপ্রাণিত করবে। উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার সম্ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ  গতিতে এগুতে পারছে না বলে যে ধারণা চালু রয়েছে, এ লোকবক্তৃতামালা, সে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠতে অনেকখানি সাহায্য করবে আশা করা যায়। অনুষ্ঠানে দেশের শিল্প ও ব্যাবসায়খাতের নেতৃবর্গ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।