মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

৬.৭৭ শতাংশ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএসসি পাস নন : সুজন

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ১৭, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ এসএসসির গণ্ডি পেরোতে পারেননি। এদের সংখ্যা চার। এ ছাড়া ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ চেয়ারম্যান এসএসসি পাস করেছেন। এ সংখ্যা একজন।

এইচএসসি পাস করেছেন ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ সংখ্যা আট। স্নাতক পাস ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ সংখ্যা ৩৪। স্নাতকোত্তর ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ সংখ্যা ১১। বাকি ১ দশমিক ৬৯ শতাংশের তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। নির্বাচন পরবর্তী পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

এ সময় তিনি চেয়ারম্যানদের পেশা, মামলা, বাৎসরিক আয়, সম্পদের হিসাবসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।

পেশাসংক্রান্ত তথ্য : ৫৯ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে কৃষি পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩ জন, ব্যবসায় ৩৮ জন, চাকরিজীবী ৫ জন, আইনজীবী ৮ জন, অন্যান্য ৫ জন।

মামলাসংক্রান্ত তথ্য : বর্তমানে মামলা আছে দুজনের, অতীত মামলা ছিল ১৫ জনের, অতীতে ৩০২ ধারায় মামলা মামলা ছিল দুজনের।  অতীতে মামলা ছিল এবং বর্তমানেও মামলা আছে একজনের।

প্রার্থী ও নির্ভরশীলদের বাৎসরিক আয়সংক্রান্ত তথ্য : দুই লাখের নিচে তিনজন, দুই থেকে পাঁচ লাখ ১৯ জন, পাঁচ থেকে ২৫ লাখ ২৫ জন, ২৫ থেকে ৫০ লাখ তিনজন, ৫০ লাখ থেকে এক কোটি তিনজন, এক কোটির ওপরে তিনজন, বাকি তিনজনের তথ্য উল্লেখ নেই ।

প্রার্থী ও নির্ভরশীলদের সম্পদের তথ্য : পাঁচ লাখ টাকার নিচে নয়জন, পাঁচ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা ২১ জন, ২৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ আটজন, ৫০ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা ১১ জন, এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকা সাতজন, পাঁচ কোটি টাকার ওপরে দুজন। বাকি একজনের তথ্য উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদ। গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। সারা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে তিনটি পার্বত্য জেলা ব্যতীত বাকি ৬১ জেলায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কুষ্টিয়া ও বগুড়া জেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ফলে এ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৫৯ জেলায়। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের দিন এবং তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত যে চিত্র আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি, তাতে আশাহত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।

তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সুজনের পর্যবেক্ষণ চিত্র তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘আইনগতভাবে এ নির্বাচন নির্দলীয় হলেও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে প্রার্থিতা প্রকাশ করা হয়। অন্য বড় কোনে রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী না দেওয়ায় এ নির্বাচন ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। এবং কোনো উৎসাহ উদ্দীপনাও সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের চাপ না থাকলেও স্থানীয়ভাবে ছিল। নির্বাচকমণ্ডলী বা ভোটারদের অনেকেই ছিলেন রাজনৈতিক দলভিত্তিক নির্বাচনে বিজয়ী। ২১ জেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনা ঘটে। অনেক সাংসদ টিআর, কাবিখা ও অর্থ বরাদ্দের প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের কাছে নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানানোসহ নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে স্পিকার কর্তৃক নোটিশ করা হলেও অনেক সংসদ সদস্য তা উপেক্ষা করে এলাকাতেই অবস্থান করেছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সারা দেশে ব্যাপকভাবে অর্থ বা উপহারের বিনিময়ে ভোট ক্রয়ের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ভোটারকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনও দেখানো হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। ভোটের আগে টাকা বিতরণ নিয়ে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে, এমনকি নির্বাচন পরবর্তীকালেও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। টাকা নিয়ে ভোট না দেওয়ায় নির্বাচনের পর ভোটারের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়া ও কোনো কোনো এলাকায় ভোটারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।