সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সাংসদ–মেয়র বিরোধ, সমঝোতার দুই ঘণ্টা পরই হামলা, আসামি মেয়র

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ১৯, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সব ধরনের বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারের দুই ঘণ্টা পরেই রাজশাহীর বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার সেই বিতর্কিত মেয়র ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা সবাই স্থানীয়ভাবে সাংসদের লোক হিসেবে পরিচিত।
গত বুধবার সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বাগমারা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

মেয়র আবুল কালাম আজাদকে প্রধান আসামি করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর সাংসদ এনামুল হককে তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পরদিনই সাংসদ সেখানে সমাবেশ করেন। এরপর থেকে সাংসদ ও মেয়রের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। এ ঘটানা নিয়ে প্রথম আলোয় সংবাদও প্রকাশিত হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির ১৬ জন সদস্য জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় গত ৩০ ডিসেম্বরের পর প্রকট হয়ে ওঠা সাংসদ ও মেয়রের বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সভায় সাংসদ ও মেয়র সব বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

তাঁরা একে অপরকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দেন। এ সময় মেয়রের হাতে উপহারও তুলে দেন সাংসদ। সভা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টা পরেই তাহেরপুরে গিয়ে সাংসদের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালান মেয়রের লোকজন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার বাদী বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে তাহেরপুর বড় মসজিদের উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামি জলসায় স্থানীয় সাংসদ এনামুল হককে প্রধান অতিথি করা হয়। সাংসদের আগমন উপলক্ষে তাঁর পক্ষের লোকজন তাহেরপুর হরিতলা মোড়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অবস্থান নেন।

এ সময় মেয়র আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে সাংসদকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করা লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানাসহ চারজন নেতা-কর্মী আহত হন। এ সময় ঘটনাস্থলের অদূরে থাকা পুলিশ আহত নেতা-কর্মীদের উদ্ধার করে।
সাংসদের পক্ষের ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক মণ্ডল বলেন, সভায় উভয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়। একে অপরকে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন। এরপরও মেয়র কালামের লোকজন সাংসদের পক্ষের লোকজনকে মারপিট করাটা ঠিক হয়নি।
হামলায় আহত শাহি বলেন, সাংসদের পক্ষে অবস্থান করায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা সাংসদ সম্পর্কে আপত্তিকর কথাবার্তাও বলেছেন।
এ বিষয়ে তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এর আগে মেয়র আবুল কালাম আজাদ দলের উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার আবুলকে গুলি করে হত্যার হুমকি প্রদান, ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে মারপিট করে আলোচিত হন।
বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় মামলাটি তালিকাভুক্ত হয়েছে। মেয়র আবুল কালাম আজাদকে প্রধান করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সুত্র, প্রথম আলো