বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯

দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ২১, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সারা দেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী ৯৪টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলবে।

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য ইতিমধ্যে অনলাইনে ১ লাখ ২৩ হাজার ১৫৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এই কার্যক্রমে এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর অন্যান্য কার্যক্রম শেষে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগেই প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত তালিকা।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে মহানগর এবং উপজেলা কমিটির রূপরেখা এবং কাঠামো চূড়ান্ত করে ৪৭০টি কমিটি করা হয়েছে। যার তালিকা ইতিমধ্যেই মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

এই কমিটি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি, আবেদন করা ও তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিরীক্ষণ এবং তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ রাইজিংবিডিকে বলেন, আজ (শনিবার) থেকে কমিটিগুলো কাজ শুরু করেছে। আজ প্রথম দিনে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল থেকে নাটোর উপজেলা জিমনেসিয়ামে এ বাছাই কার্যক্রম শুরু হয় বলে আমরা জেনেছি।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নাটোর থেকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্তির জন্য বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে ২৬৭ জন আবেদন করেছেন। এই কমিটি বাছাইকালে আবেদনকারীদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন এবং সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

আগামী ২৮ জানুয়ারি এবং ৪, ১১ ও ১৮ ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা, জেলা এবং মহানগর পর্যায়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১২ জানুয়ারি জেলা, মহানগর ও উপজেলা কমিটি গঠনের আদেশ জারি করে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ে আগের গঠন করা কমিটি বাতিল করা হয়।

আদেশে বলা হয়, জেলা/মহানগর কমিটিতে বর্তমান সংসদ সদস্য অথবা তার মনোনীত মুক্তিযোদ্ধা কমিটির সভাপতি হবেন। সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হলে তিনি সদস্য হবেন। আর মুক্তিযোদ্ধা না হলে তার না হলে তার মনোনীত একজন মুক্তিযোদ্ধা সভাপতি হবেন। তবে ওই সংসদ সদস্য কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন।

এ ছাড়া এই কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, জেলা/মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বা তার মনোনীত জেলা/মহানগর এলাকার একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি সদস্য থাকবেন। কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)।

একইভাবে উপজেলা কমিটিতে সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হলে তিনি নিজে এই কমিটির সভাপতি হবেন। সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা না হলে তার মনোনীত একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি কমিটির সভাপতি হবেন। তবে সংসদ সদস্য কমিটির সদস্য থাকবেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং তার মনোনীত প্রতিনিধির বাইরে উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বা তার মনোনীত একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি সদস্য থাকবেন। এই কমিটিতে সদস্য সচিব থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের আওতাধীন কোনো মুক্তিযোদ্ধা/প্রতিনিধি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। আর যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ছাড়া অন্য কেউ হলে তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত হতে হবে।

এই কমিটি ইতিপূর্বে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের পাঠানো মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তথ্যাবলী মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নির্দেশিকা ২০১৬ অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করবে। কোনো কারণে কোনো কমিটির সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সদস্য সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির সদস্য সংখ্যার অধিকাংশের উপস্থিতিতে কমিটির কোরাম সম্পন্ন হয়েছে বিবেচনা করে কমিটি কার্যসম্পাদন করতে পারবে। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কর্তৃপক্ষ যেকোনো কমিটির আংশিক বাতিল বা সংশোধন করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

কমিটির কার্যপরিধিতে আরো বলা হয়, যাচাই-বাছাই কমিটিকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ঘোষিত তারিখ ও স্থানে (সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী বলেন, কমিটিগুলো ‘মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নির্দেশিকা-২০১৬’ অনুযায়ী যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে প্রতিবেদন পাঠাবে এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নোটিশ বোর্ডে একটি কপি টাঙিয়ে দেবে। সুত্র রাইজিংবিডি