শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরালেন সাকিব

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ২১, ২০১৭
news-image

অনলাইন ডেস্ক:

মাথা নামানোরও সময় পেলেন না টম ল্যাথাম। রুবেল হোসেনের বাউন্সার আঘাত করল হেলমেটে। কিছু সময়ের জন্য যেন সংবিৎ হারালেন নিউজিল্যান্ড ওপেনার। একটু ধাতস্থ হয়ে আবার ব্যাটিং করলেও বদলাতে হলো হেলমেট।

ল্যাথামকে মাঠছাড়া করতে পারেনি রুবেলের বাউন্সার। তবু হ্যাগলি ওভালে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের বোলারদের আক্রমণাত্মক মানসিকতার প্রতীক হয়ে থাকল সেটি। সারা দিনে নিউজিল্যান্ডের ৭ উইকেট ফেলেছে তারা। তবে পেসারদের সাফল্যটা শুধু উইকেট সংখ্যা দিয়ে বোঝানো যাবে না। বাউন্সার আর মুভমেন্ট দিয়ে কিউই ব্যাটসম্যানদের বিব্রত করে রেখেছেন প্রতিনিয়ত। রুবেলের বলের গতি তো কয়েকবারই ১৪০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। তবে শেষ বিকেলে বৃষ্টিতে দিনের খেলা শেষ ঘোষণার আগ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৭ উইকেটে ২৫৬ না হয়ে আরও খারাপও হতে পারত। কিন্তু সহজ ক্যাচও যদি ফিল্ডারদের হাতে না জমে, বোলারদের আর কী দোষ?
অর্ধেক সুযোগ বাদ দিলেও আজ বাংলাদেশের ফিল্ডাররা ক্যাচ ফেললেন চারটি। প্রথম দুর্ভাগ্য মেহেদী হাসান মিরাজের। ব্যক্তিগত ২ রানের সময় তাঁর বলে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান ওপেনার জিত রাভাল। সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচটা নিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। ব্যক্তিগত ১২ রানে রাভাল আবারও জীবন ফিরে পান স্লিপে ফিল্ডার সাব্বির রহমানের পিচ্ছিল হাত থেকে। বোলার এবার তাসকিন আহমেদ। রাভালের মতো দুবার বেঁচেছেন ৭৭ রান করা রস টেলরও। ব্যক্তিগত ১ রানে কামরুল ইসলামের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ নিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। মিরাজের বলে টেলরের ক্যাচ পড়েছে পরেও। মিড উইকেটে ফিল্ডার কামরুল বলের নিচেই পৌঁছাতে পারেননি ঠিকমতো। টেলর তখন ৭৫-এ।
লাঞ্চের আগে দুবার বেঁচে গিয়েও রাভালকে থামতে হয়েছে ১৬ রান করে। তাঁর উইকেটসহ লাঞ্চের আগেই ২ উইকেট পড়ে গেল নিউজিল্যান্ডের। দুটোই কামরুল ইসলামের এক ওভারে। ইনিংসের ১৫তম ওভারে প্রথম স্পেল করতে এসে প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফেরান রাভালকে। এক বল পর কট বিহাইন্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। দারুণ এক আউট সুইং ছিল কামরুলের। বল ব্যাট ছুঁয়ে জমা পড়ল উইকেট কিপার নুরুল হাসানের গ্লাভসে।
লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭০ রান কার নিউজিল্যান্ড চা–বিরতির আগে হারিয়েছে আরও ২ উইকেট। আর শেষ সেশনে মাত্র ৯ বলের ব্যবধানে পড়েছে তিন উইকেট। শেষ সেশনে হঠাৎই তাদের লেজটা বের করে আনার কৃতিত্ব সাকিব আল হাসানের। ৬৯তম ওভারে দুই বলের ব্যবধানে ফিরিয়েছেন ওয়াটলিং ও গ্র্যান্ডহোমকে। এর আগে স্যান্টনারকে এলবিডব্লু  করা সাকিবই দিন শেষে উইকেটের দিক দিয়ে দলের সেরা বোলার।
তবে সকালে রুবেল-কামরুলরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, নিউজিল্যান্ডের পা হড়কানোর শুরু তখন থেকেই। বড় জুটি বলতে তৃতীয় উইকেটে ল্যাথাম-টেলরের ১০৬ আর পঞ্চম উইকেটে স্যান্টনার নিকোলসের ৭৫ রান। বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে এমন দিন কাটিয়ে নিশ্চয়ই খুশি নয় নিউজিল্যান্ডও।