বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯

নিরপেক্ষ না হলে ইসি গ্রহণযোগ্য হবে না : খালেদা জিয়া

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ২২, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিরপেক্ষ সার্চ কমিটির মাধ্যমে ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন’ গঠন না হয়ে তা যদি শাসকদলের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়, সেটি জনগণ ও বিদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

শনিবার রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘জিয়া পরিষদে’র সম্মেলন উপলক্ষে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কোনো দলের না, তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি। আশা করি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। তিনি (রাষ্ট্রপতি) যদি সরকার দলের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য কোনো নির্বাচন কমিশন গঠন করেন, সেটা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে কমিশন গঠন করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপি নেত্রী।

তিনি বলেন, ‘এমন কমিশন গঠন করতে হবে যারা মাথা উঁচু করে, মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করতে পারেন। রকীবের (কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ) মতো ওই রকম দলীয় লোক যদি বসিয়ে দেয়, তাহলে সত্যিকার অর্থে নির্বাচন কমিশন হবে না, দেশি-বিদেশি কারও কাছেই আস্থা পাবে না।’

আওয়ামী লীগকে ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী’ আখ্যায়িত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মানেই গুম, খুন, লুটপাট। এরা ব্যাংকগুলোকে ফোকলা করে দিয়েছে। দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করছে। আওয়ামী লীগের অধীনে দেশের মানুষ ভাল থাকতে পারে না। এখন জীবনের নিরাপত্তা নেই। দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করছে।’

আওয়ামী লীগ এক-এগারোর সেনা সমর্থিত মঈনউদ্দিন-ফকরুদ্দিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষমতায় এসেছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখন সংবিধান পরিবর্তন করে নির্বাচনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতা দখল করে আছে। স্বৈরাচারী এরশাদ ও আওয়ামী লীগ এক হয়ে গণতন্ত্র হত্যা করছে।’

দেশে বিচার বিভাগ স্বাধীন নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আইন সকলের জন্য সমান নয়। আওয়ামী লীগ হলে এক রকম বিচার হয় বা অন্যদল ও সাধারণ নাগরিক হলে তাদের জন্য ভিন্ন রকমের বিচার হয়। বিএনপির লোক হলে সে অপরাধ করুন না করুক তার জেল নির্ধারিত।’

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে সভায় অধ্যাপক সলিমল্লাহ খান, অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক আলিম রহমান, অধ্যাপক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক নাহিদ জেবা, অধ্যাপক হাসনাত আলী, অধ্যাপক মো. মমতাজ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।