শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সেই জুনায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ২৪, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেয়ে বন্ধুকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় সেই জুনায়েদ ও তার বড় ভাই রিজভীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তীর আদালতে এ দুটি অভিযোগপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে জুনায়েদ ও রিজভী ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মকবুলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় আমাদের কাছে দুটি অভিযোগপত্র আসে। আজ অভিযোগপত্র দুটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। একটি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এবং অন্যটিতে হত্যাচেষ্টা ও মারধর করার অভিযোগ করা হয়েছে।’

মকবুলুর রহমান জানান, দুজনই আদালত থেকে জামিনে আছেন। মামলা দুটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ মার্চ জুনায়েদ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তার জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ২৪ মার্চ তার জামিন আবেদন করলে সেই দিনও তার জামিন নামঞ্জুর করেন একই ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৩১ মার্চ জুনায়েদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

মামলার ঘটনা থেকে জানা যায়, গত ১৩ মার্চ ধানমন্ডি লেকের পাড়ে একটি মারধরের ঘটনাটি ঘটে, যা ভিডিও করা হয়। ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে নুরুল্লাহ নামের এক কিশোরকে মারধর করছে জুনায়েদ। জুনায়েদের অভিযোগ, নুরুল্লাহ তার বান্ধবীকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। কিন্তু বারবার অভিযোগ অস্বীকার করেছে নুরুল্লাহ। তারপরও থামছে না জুনায়েদ। বিরতিহীনভাবে চড়-থাপ্পড় ও লাথির পর নুরুল্লাহ বসে পড়লে ফিল্মি কায়দায় তাকে তুলে দাঁড় করিয়ে আবারও মারছে জুনায়েদ। লাথি দিতে দিতে জুনায়েদ নুরুল্লাহকে বলছে, ‘তুই গুটিবাজ। তুই ওকে খারাপ বলছিস।’ উত্তরে নুরুল্লাহ বলে, ‘আমি গুটিবাজি করলে এখানে একা আসতাম না।’

ফুটেজে দেখা যায়, মারের হাত থেকে বাঁচতে মিনতি জানাচ্ছে নুরুল্লাহ। কিন্তু মায়া হচ্ছে না জুনায়েদের। লম্বা চুলে হাত বুলিয়ে আবার সমানতালে চালাচ্ছে হাত-পা। এ সময় জুনায়েদ বলে, ‘আমি জুনায়েদ, তুই আমাকে চিনিস না।’

নুরুল্লাহর নাক-মুখ দেখিয়ে জুনায়েদ বলে, ‘আমি কাউকে মারলে এই দিক দিয়ে রক্ত বের হয়।’

অনবরত এমন মারধর দেখে জুনায়েদকে আস্তে মারতে বলে মৃদুল (যে ভিডিও করছে) নামের এক কিশোর। উল্টো জুনায়েদ মৃদুলকেও মারধরে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

এদিকে মারধরের ঘটনায় গত বছরের ১৪ মার্চ রাতে ধানমন্ডি থানায় মামলা করে নুরুল্লাহ।