মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আগাম প্রচারণা

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ২৫, ২০১৭
news-image

অনলাইন ডেস্ক:

রাজশাহীর বাগমারার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে নির্বাচনী আগাম প্রচারণা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ নির্বাচনের কোনো তফসিলই এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এই শিক্ষকেরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রচারণা চালানোয় তাঁদের সহকর্মীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সহকর্মী শিক্ষকদের অভিযোগ, বাগমারা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে শিক্ষকদের একটি অংশ ২০ দিন ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দরগামাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ জুবায়ের মো. কিবরিয়ার নেতৃত্বে এই প্রচারণা চলছে। তাঁর দলে ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা বিদ্যালয় চলাকালীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই শিক্ষকেরা হলেন বলয়পাড়া বিদ্যালয়ের আবদুল খালেক, ঝিকড়ার ডিএম নাজমুল হক, সূর্যপুরের এমরান হোসেন, বৈলসিংহের মকলেছুর রহমান, বোরহান উদ্দিন, শেরকোল শিমলার আশরাফুল ইসলাম, মরুগ্রামের ফরহাদ হোসেন, সাদিপুরের আবদুল মালেক, হামিরকুৎসার কায়েম উদ্দিন, যোগিপাড়ার মকছেদ আলী, গুনিয়াডাঙ্গার হোসনে আরা, তাহেরপুরের রেজাউল করিম, পানিয়ার সাহার আলী, সাদোপাড়ার আশিকুর রহমান ও তক্তপাড়া বিদ্যালয়ের আতাউর রহমান। তাঁরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আর সেই ছবিগুলো ফেসবুকেও আপলোড করা হয়। বিদ্যালয় চলাকালীন প্রচারণা চালানোয় পাঠদানেও সমস্যা হয়। বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় অন্য শিক্ষকদের।

বড়বিহানালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদেশ কুমার সরকার বলেন, গত সোমবার বিদ্যালয় চলার সময় তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সৈয়দ জুবায়ের কিবরিয়ার নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি দল বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে।

ঝাড়গ্রাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার সরকার বলেন, তাঁর বিদ্যালয়েও গত রোববার দলটি নির্বাচনের প্রচারণা চালিয়ে গেছে।

সূর্যপুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল বারিক মণ্ডল বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এমরান হোসেন কোনো ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই বিষয়ে তাঁকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

ঝিকড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন, সাদিপুরের আনিসুর রহমান ও সাদোপাড়ার আবদুর রহমান জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ের তিন সহকারী শিক্ষক যথাক্রমে ডি এম নাজমুল হক, আশিকুর রহমান ও আবদুল মালেক ১৫ দিন ধরে বিদ্যালয় চলাকালে বাইরে নির্বাচনের প্রচারণায় থাকছেন। অথচ তাঁরা এ কাজের জন্য কোনো অনুমতি নেননি। এতে পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষকেরা। তবে এসব শিক্ষকেরা বিদ্যালয় শুরুর সময় এসে হাজিরা খাতায় আগমন ও প্রস্থানের সময় উল্লেখ করে স্বাক্ষর দিচ্ছেন ঠিকই।

সৈয়দ জুবায়ের কিবরিয়া প্রচারণা চালানোর কথা স্বীকার করে বলেন, ছুটিতে থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখনো নির্বাচনের কোনো তফসিল ঘোষণা করা হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি।

বাগমারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক আজাদ সফিকুর রহমান বলেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। এর আগে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে প্রচারণা চালানো ঠিক না।

অভিযুক্তদের মধ্যে বৈলসিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকলেছুর রহমান নিজেকে সভাপতি প্রার্থী দাবি করে বলেন, এখন থেকে আর বিদ্যালয় চলার সময় প্রচারণা চালাবেন না। বিদ্যালয় চলার সময় এভাবে প্রচারণা চালানো ঠিক না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই রকম মন্তব্য করেন ফরহাদ হোসেন ও আশিকুর রহমান। তবে প্রচারণা চালাতে ব্যস্ত থাকা অন্য শিক্ষকেরা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

বাগমারা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম ছানোয়ার হোসেন ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, তাঁদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। সুত্র, প্রথম আলো