বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

ট্রাম্পের সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় ৭ মুসলিম দেশের নাগরিক

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ২৮, ২০১৭
news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সিরিয়াসহ সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।  তারা তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশও চার মাসের জন্য স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। এক  নির্বাহী আদেশে তিনি এইসব পদক্ষেপ নিয়েছেন। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি,  এ ধরনের পদক্ষেপগুলো মার্কিন নাগরিকদেরকে সন্ত্রাসী হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা এবং চার মাসের জন্য শরণার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করে শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। সিরিয়া ছাড়া বাকি যে ৬টি মুসলিম দেশ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে সেগুলো হলো ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেন।

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প পেন্টাগনে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে জঙ্গিবাদের কবল থেকে রক্ষা করতে তিনি নতুন কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। তিনি তখন বলেন, ‘আমাদের দেশে কেবল আমরা তাদেরকেই গ্রহণ করতে চাই যারা আমাদের দেশকে সমর্থন করবে এবং গভীরভাবে আমাদের লোকজনকে ভালোবাসবে।’ আর এর প্রায় দুই ঘণ্টা পরই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ প্রকাশ করা হয়। ট্রাম্পের নতুন এ নির্বাহী আদেশের শিরোনাম-‘প্রটেকশন অব দ্য নেশন ফ্রম ফরেন টেররিস্ট এন্ট্রি ইনটু দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা।’
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ট্রাম্প মুসলিম ও শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার সাময়িক সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করার কথা বলেছিলেন। তখন তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড়ও তুলেছিল। এবার সেই বিতর্কিত প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়িত করলেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সবাই ভালোভাবে নেয়নি।
ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের কারণে শরণার্থীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। এছাড়া অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের যে সুনাম রয়েছে তাও ক্ষুণ্ন হবে বলে আশঙ্কা জানানো হয়।
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’-এর প্রফেসর স্টেফেন লিগোমস্কি বলেন, ‘আইনত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শরণার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ভিসা বন্ধের অধিকার রয়েছে। তবে এটি শরণার্থীদের মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ ধারণা।’

লিগোমস্কি ওবামা প্রশাসনের সিটিজেনশিপ ও ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস-এর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। সূত্র: গার্ডিয়ান, বিবিসি, রয়টার্স