বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক নয় : রুয়েট ভিসি

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ২৯, ২০১৭
news-image

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ‘৩৩ ক্রেডিট সিস্টেম’ বাতিলের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনেও ক্লাস বর্জন ও অবস্থান কর্মসূচী অব্যহত রেখেছেন। তবে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক নয় বলছে রুয়েট প্রশাসন।
রোববার সকাল ১০টা থেকে শহীদ মিনার চত্বরে ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। এসময় তারা এ নিয়ম বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। সেই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এ দাবি অযৌক্তিক বলে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রুয়েট সূত্রে জানা যায়, পরবর্তী বর্ষে ওঠার জন্য দুই সেমিস্টারে ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট পাওয়া বাধ্যতামূলক। এটি অর্জন করতে না পারলে তাকে পরবর্তী বর্ষে উঠতে দেয়া হয় না। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম চালু করা হয়।
বরাবরের মতো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছে। বিশেষ করে, রুয়েটে ক্লাস-ল্যাবের সঙ্কট থাকার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না তাদেরকে অন্য ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হবে।
এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতাতেও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে। প্রশাসন কোনো পদ্ধতি প্রণয়ন করলে সেটা সবদিক বিবেচনা করে করা উচিত বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
তবে রুয়েট উপাচার্য শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘অকৃতকার্য হয়ে কি কখনো ওপরের ক্লাসে ওঠা যায়? আমরা তবুও দুই-তিনটি বিষয়ে ফেল করলেও পরের বর্ষে উঠার ব্যবস্থা রেখেছি। ওরা সব বিষয়েও ফেল করে পরবর্তী বর্ষে উঠার দাবি করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
‘৩৩ ক্রেডিট সিস্টেমের’ ব্যাপারে ইলেক্ট্রিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘৩৩ ক্রেডিট সিস্টেম’ চালুর আগে শিক্ষার্থীরা অনেকে একাধিক কোর্সে ফেইল রেখে বা পরীক্ষা না দিয়ে পরের বর্ষে উঠে যেত। এতে পরবর্তীতে তাদের ওপর অনেক চাপ পড়ে যায়। এই ক্রেডিট পদ্ধতি চালুর পর আমরা শিক্ষার্থীদের থেকে ভালো সুফল পাচ্ছি। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান বাড়ছে।’
এ ব্যাপারে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা এন এইচ এম কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আজকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেছেন। মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে জোর করেই আন্দোলন চালাচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ নিয়মেই ক্লাস করতে আগ্রহী।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই পদ্ধতি একদিনে চালু করিনি। অনেক গবেষণা ও সভার পর এই পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর এই পদ্ধতিতে তো সবার সমস্যা হচ্ছে না। অল্প কয়েক জনের জন্য তো আমরা পুরো কারিকুলাম বদলে ফেলতে পারি না।