শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ২৯, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য বিনিয়োগ ও উৎপাদন সহায়ক সতর্ক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির।

এ ছাড়া দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে জুন, ২০১৭ পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি অপরিবর্তিত রেখে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

এদিকে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থবছর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

নতুন মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ব্যক্তিখাতের ঋণের প্রবৃদ্ধিসহ অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বসীমা জুন পর্যন্ত পূর্ব নির্ধারিত ১৬ দশমিক ৫ ও ১৬ দশমিক ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।

এর আগের মুদ্রানীতিতেও ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা একই ছিল। এবার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ও ব্যক্তিখাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুঁজিবাজারের আকার বাড়ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচক বেড়েছে ২৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পুঁজিবাজারের অবদান ১৫ শতাংশ। এটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দেশের পুঁজিবাজারে ২০১০ সাল থেকে বিরাজমান মন্দা প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি যেন সুস্থ ধারায় থাকে সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিক থেকেও তাদের গ্রাহকদের নেওয়া বিভিন্ন ঋণ সঠিক খাতে যথাযথ ব্যবহার হয় কি না সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।

এ ছাড়া নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ না থাকলে অতীতের মতো এবারও ‘প্রলুব্ধ ক্ষুদ্র’ বিনিয়োগকারীদের গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে বলেও জানান গভর্নর।

সম্প্রতি সরকারের ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ উত্তোলন হ্রাস ব্যক্তি খাতের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ যোগান সুগম করেছে বলে ফজলে কবির বলেন, ব্যক্তিখাতের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ যোগান সুগম হলেও তা বাজার ভিত্তিক নয়, এমন সুদ হারে বিক্রিত সরকারি সঞ্চয় স্কিমগুলোর আওতায় ব্যাপক পরিমাণ সরকারি অর্থায়নের এ প্রবণতা দেশে বন্ড বাজার বিকাশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

এ সময় ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, এস এম মনিরুজ্জামান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে ছিলেন।