শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

মসজিদে গুলি মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা: ট্রুডো

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ৩০, ২০১৭
news-image

অনলাইন ডেস্ক :

কানাডার কুইবেকে মসজিদে ছোড়া গুলিতে হতাহত হওয়ার ঘটনাকে মুসলমানদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

এক বিবৃতিতে ট্রুডো বলেন, ‘মুসলমানদের ওপর এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানাই।’

স্থানীয় সময় গতকাল রোববার রাতে নামাজের সময় কুইবেক সিটি ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে বন্দুকধারীরা নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। এতে ছয়জন নিহত ও আটজন আহত হন।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইয়ানগুই তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছিলেন, কুইবেক সিটি ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের ভেতরে থাকা অন্তত ৪০ জন মানুষের ওপর জনা তিনেক বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি ছোড়ে।

এখন কুইবেক প্রাদেশিক পুলিশ বলেছে, গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের বয়স ৩৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হবে। এ ছাড়া আটজন আহত হয়েছেন। ৩৯ জন অক্ষত।

পুলিশ বলছে, তিনজন নয়, হামলায় দুই ব্যক্তি জড়িত ছিল।

হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এ ছাড়া হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।

মসজিদ কমিটির সভাপতি ইয়ানগুই জানান, হামলার সময় মসজিদের ভেতর তিনি ছিলেন না। তবে মসজিদের ভেতরে থাকা লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ফোনে তাঁকে বিষয়টি জানান।

মোহাম্মদ ইয়ানগুই বলেন, এখানে কেন এমন হামলা হলো? এটা বর্বরতা।

প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো তাঁর বিবৃতিতে বলেন, কানাডার মুসলমানরা দেশের জাতীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কানাডার সমাজ, শহর ও দেশে এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কোনো ঠাঁই নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দেশটির দরজা শরণার্থীদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করেন। একই সঙ্গে মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপন্ন শরণার্থীদের নিজ দেশে স্বাগত জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

কানাডার আইনপ্রণেতা গ্রেগ ফারগাস এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেন, কুইবেকের ঘটনার পর তাঁর শহরের মসজিদগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে চোখ-কান খোলা রাখতে বলা হয়েছে।