রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

শিক্ষকের লাথি ছাত্র হাসপাতালে

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৭
news-image

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটে এক শিক্ষক নির্দয়ভাবে এক ছাত্রকে মারপিট করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষক এলোপাতাড়ি লাথি মারায় তহিদুল ইসলাম কামরুল (১২) নামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গত মঙ্গলবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফকিরের তকেয়া বাজারের রমাকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল আউয়াল এ ঘটনা ঘটান। কামরুল পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রমাকান্ত (ফকিরের তকেয়া) এলাকার জমসের আলীর ছেলে। অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল আউয়ালকে আজ বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, বেঞ্চে বসা নিয়ে কামরুল ও রাকিবের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঘটনাটি রাকিব তার বাবা ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল আউয়ালকে জানালে তিনি ক্লাসে এসে কোনো কিছু না শুনে কামরুলকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও পা দিয়ে লাথি মারতে থাকেন। এতে কামরুল শ্রেণির মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার পরও শিক্ষক আউয়াল পায়ের জুতাসহ তার শরীরের বিভিন্ন অংশে লাথি মারতে থাকেন। ওই শিক্ষকের এভাবে এলোপাতাড়ি আঘাতে একসময় কামরুলের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকলে শিক্ষক আউয়াল অবস্থা বেগতিক দেখে রাকিবকে নিয়ে সটকে পড়েন। পরে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক কামরুলকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক শামীমা নাজনীন সাংবাদিকদের জানান, মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ায় ছাত্রটি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। তবে রক্তবমি না করায় প্রাথমিক শঙ্কা কেটে গেলেও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা কামরুলের মুখে রক্তের দাগ দেখেছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি ক্লাসে গিয়ে দেখি তহিদুল মেঝেতে পড়ে আছে এবং কান্নাকাটি করছে। তখন আমি দুজন ছাত্র দিয়া তাকে মেঝে থেকে উঠাই এবং তার মুখে শুনি যে, আউয়াল স্যার তাকে মেরেছে।’
সহকারী শিক্ষক আবদুল আউয়াল বলেন, ‘আমার ছেলের গায়ে আঘাত করায় রাগের মাথায় ওই ছাত্রকে দু চারটি চর-থাপ্পড় মেরেছি।’
পা দিয়ে কেন লাথি মারা হলো, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
রমাকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসার আলী বলেন, ওই শিক্ষককে এর আগেও মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে একজন ছাত্রকে নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করতে পারে তা আমার জানা নেই।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবেদা খাতুন বলেন, আমি ঘটনাটি তদন্ত করে ছাত্রটিকে শারীরিক শাস্তি প্রদানের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছি।
লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবেজ উদ্দিন সরকার বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল আউয়ালকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি ১৯৮৫ এর বিধি ১১(১) অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারি থেকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘ওই ছাত্রের প্রতি শিক্ষক আবদুল আউয়াল যে অমানবিক ও নির্দয় আচরণ করেছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। পাশাপাশি ছাত্রটির চিকিৎসার খোঁজ খবরও রাখতে বলেছি।’