রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৯

আর্সেনালকে হারিয়ে চেলসির ‘মধুর প্রতিশোধ’

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৭
news-image

অনলাইন ডেস্ক:

প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমের সবচেয়ে সুন্দর গোলের তালিকায় আরেকটি গোল যোগ হলো। গোলদাতা? এডেন হ্যাজার্ড।

কি করেছেন? তা না বলে, প্রশ্নটা করা উচিত কি করেননি চেলসি মিডফিল্ডার? দ্বিতীয়ার্ধের আট মিনিট চলছে তখন। মাঝমাঠে ঠিক বৃত্তে বল পেলেন হ্যাজার্ড, তারপরই শুরু হলো ‘ট্রেডমার্ক’ দৌড়। প্রথমে বডি ডজে এক ডিফেন্ডারকে পেরিয়ে গেলেন। এরপর প্রায় ১০-১২ গজ জার্সি টেনে, ধাক্কাধাক্কি করে তাঁকে আটকাতে চেয়েছিলেন ফ্রান্সিস ককেলান… শরীরের মোচড়ে আর শক্তির প্রয়োগে ছিটকে ফেললেন তাঁকেও। এতটুকু করে আসার পর বাকি কাজটা তো ‘সহজ’ই! বক্সে ঢুকলেন, ইনসাইড-আউটসাইড করে একই ডিফেন্ডারকে দুবার কাটালেন, আড়াআড়ি শট নিলেন গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে। গোল! আরেকটু স্পষ্ট করে বললে, অনেক দিন চোখে লেগে থাকার মতো গোল!
প্রথমার্ধে মার্কোস আলোনসোর গোলের পর হ্যাজার্ডের এই দুর্দান্ত গোলেই লেখা হয়ে যায় আর্সেনালের হার। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ৩-১ গোলে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে চেলসি। গত সেপ্টেম্বরে আর্সেনালের মাঠে যে ৩-০ গোলে হেরেছিল আন্তোনিও কন্তের দল! আর্সেনালের হারে হয়তো লেখা হয়ে গেছে প্রিমিয়ার লিগে অন্য কোনো দলের শিরোপা-স্বপ্নের এপিটাফও। লিগে এখনো ১৪-১৫টি করে ম্যাচ বাকি আছে, তবে যেভাবে এগোচ্ছে চেলসি, তাতে শিরোপাটা স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে না গেলেই সেটি হবে ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটন।
শুরু থেকেই দাপট বেশি দেখিয়েছে চেলসি। বিশেষ করে প্রতিআক্রমণে হ্যাজার্ড-কস্তা-পেদ্রোদের গতি ও মুভমেন্টের সঙ্গে যেন তালই মেলাতে পারছিল না আর্সেনাল। ১৩ মিনিটে এগিয়েও যায় আন্তোনিও কন্তের দল। ডান দিক থেকে পেদ্রোর দুর্দান্ত ক্রসে জোরাল হেড করেছিলেন কস্তা, কিন্তু আর্সেনাল গোলকিপার পিওতর চেকের হাতে লেগে তা গিয়ে লাগে বারের ওপরের দিকের অংশে। তাতেও বাঁচেনি আর্সেনাল। বারে লাগার পর কিছুক্ষণ বাতাসে ভেসে বল আবার নেমে আসে, জোরাল হেডে সেটিকে জালে জড়িয়ে দেন চেলসি লেফট উইং-ব্যাক মার্কোস আলোনসো।
গোল খেয়ে যেন কিছুটা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে আর্সেনাল। আক্রমণে আসে গতি, এতক্ষণ চেলসি বক্সের সামনে একাই দৌড়াদৌড়ি করতে থাকা অ্যালেক্সিস সানচেজ আশেপাশে পান কয়েকজন সঙ্গী। প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের সামনে প্রেসিংও বাড়ে। ৩৮ মিনিটে সমতা ফেরানোর দুর্দান্ত সুযোগও পেয়েছিল আর্সেনাল, কিন্তু মাত্র ৪-৫ গজ দূর থেকে আর্সেনাল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন চেলসি গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া। ৪৭ মিনিটে আবার দৃশ্যপটে বেলজিয়ান গোলকিপার। মেসুত ওজিলের শটেও করেন দুর্দান্ত সেভ।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনালের যদি ফিরে আসার কোনো আশা থেকে থাকে, সেটি শেষ হয়ে গেছে হ্যাজার্ডের ওই দুর্দান্ত গোলে। আর পরের গোলটিতে তো যেন প্রকৃতিও একটু ‘খেলল’ আর্সেনালকে নিয়ে। নিজেদের বক্সের সামনে থ্রো-ইন পেয়েছিল আর্সেনাল, গ্যাব্রিয়েলের সেই থ্রো নিজের পায়ে নিতে চেয়েছিলেন পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা আর্সেনাল গোলকিপার চেক, মাত্র দু মৌসুম আগেই যিনি চেলসি ছেড়ে গিয়েছিলেন গানারদের দলে। কিন্তু সামনে যে পাস বাড়াতে চেয়েছিলেন চেক, সেটি ঠিকঠাক হলো না। বক্সের একটু বাইরেই গিয়ে পড়ল এক চেলসি খেলোয়াড়ের পায়ে। সেটি কে? দুই মৌসুম আগে চেলসিতে আসা সাবেক আর্সেনাল মিডফিল্ডার—সেস্ক ফ্যাব্রিগাস! তাঁর চিপ জড়িয়ে গেল জালে।
এমন লজ্জার পর অবশ্য যোগ করা সময়ে আর্সেনালের হয়ে একটি গোল করেছেন অলিভিয়ের জিরু। কিন্তু প্রতিপক্ষের মাঠে দলকে সমর্থন দিতে আর্সেনাল সমর্থকদের সেই গোল উদ্‌যাপনের মুড তখন আর ছিল না। থাকার কথাও নয়।