বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

১৪ মার্চ হাজির না হলে খালেদার জামিন বাতিল

SONALISOMOY.COM
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৭
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাষ্ট্রদ্রোহের একটি এবং নাশকতার ১০ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামী ১৪ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই দিন হাজির না হলে তার জামিন বাতিল করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত এ আদেশ দেন বলে জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।

জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, সোমবার ১১ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। অপর ১০ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুর সঙ্গে বৈঠক থাকার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ জন্য তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৪ মার্চ ঠিক করেছেন। ওই দিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। হাজির না হলে তার জামিন বাতিল করা হবে জানিয়ে দেন আদালত।

মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানার নাশকতার ৮টি, যাত্রাবাড়ী থানার ২টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের ১টি মামলা।

গত ১ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ শুনানির ১০ মামলায় আদালত খালেদা জিয়াকে সোমবার আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে বলে জানিয়ে দেন আদালত।

আর ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় খালেদা জিয়াকে সোমবার আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেন। অন্যথায় তার জামিন বাতিল করা হবে বলে জানিয়ে দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করার অভিযোগে গত বছর ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোলবোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামের এক যাত্রী।

এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান। ওই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

গত বছরে বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। সবগুলো মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে খালেদা জিয়া মামলাগুলোয় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।