মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

টাকার অভাবে বিদেশ থেকে স্বামীর লাশ আনতে পারছেন না সায়েদা

SONALISOMOY.COM
মার্চ ২১, ২০১৭
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি
ওমানের এক হাসপাতালে মারা যাওয়া রাজশাহীর বাগমারার শারাফত আলী (৩৯) নামের এক প্রবাসীর লাশ দেশে আনতে পারছে না পরিবারটি। সে দেশের কোম্পানী লাশ পাঠানোর বিষয়ে কোনো খরচ করবে না বলে জানানোর কারণে তাঁর লাশ দেশে আনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি উপজেলা সদর বাগমারা গ্রামের মৃত আবির আলীর ছেলে। লাশ দেশে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন মৃত প্রবাসীর স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর আগে জমিজমা বিক্রি করে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ওমানে যান। ওই দেশের একটি প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনে চাকরি নেন। গত ১ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই কোম্পানীতে কর্মরত বাংলাদেশের শ্রমিকেরা তাঁকে ওই দেশের রোস্তাক শহরের আরজিএইচ নামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার মারা যান। পরের দিন মুঠোফোনের মাধ্যমে ওই দেশে থাকা একই এলাকার আরেক প্রবাসী মৃত্যুর বিষয়টি জানান। কোম্পানীর সঙ্গে কথা বলে লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন বলেও মুঠোফোনের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন।

তবে গত বুধবার বিকেলে তিনি মুঠোফোনে জানান, ওই কোম্পানী লাশ দেশে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা নিবে না। নিজের খরচে লাশ দেশে নিতে হবে বলে কোম্পানীর পক্ষে জানানো হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বকেয়া চিকিৎসা খরচের টাকাও বহন করতে হবে।

এদিকে এই খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন আরও ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জোবায়েদ হোসেন, রহিদুল ইসলামসহ আট ব্যক্তি বলেন, শারাফত আলীর আয়ের ওপর বৃদ্ধা মা ও তিন ছেলে মেয়ে চলতেন। ছেলের বয়স চার বছর এবং দুই মেয়ের বয়স ১৪ ও আট বছর। মাটির একটি বসত বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। সব কিছু বিক্রি করে দেশের বাইরে গিয়ে নিজে মরে গেলেও পরিবারে সবাইকে পথে বসিয়েছেন। স্থানীয় গণিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, পরিবারের পক্ষে লাশ দেশে আনা সম্ভব নয়।

স্ত্রী সায়েদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামী ওই দেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ধার দেনা করে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আরেক প্রবাসীর ব্যাংক হিসাব নম্বরে গত ৯ মার্চ দেড় লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা বাবদ ওই টাকা পাঠানোর পর স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘লাশটা দেশে এনে কবর দিতে চাই, আপনারা ব্যবস্থা করেন।’ নিজের খরচে লাশ দেশের আনার কোনো সামর্থ্য নেই বলে জানিয়েছেন।
ওই দেশে থাকা একই গ্রামের বাচ্চুর রহমান মুঠোফোনে গতকাল এই প্রতিবেদককে জানান, লাশটি এখন ওই হাসপাতালেই রয়েছে। তাঁরা কোম্পানীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে লাশ বাংলাদেশে পাঠানোর কোনো খরচ বহন করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এখন দূতাবাস বিষয়টির সুরাহা করতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনিও কোম্পানী এবং হাসপাতালের নাম জানাতে পারেননি।

এই বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ এনামুল হক জানান, তিনি ঘটনাটি জেনেছেন। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। ওই দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত না থাকায় বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে লাশ আনার বিষয়ে উদ্যোগ নিবেন।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার জানান, তিনি ঘটনাটি জানেন না। তবে এই বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।