মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭

ভালো স্বাস্থ্যের জন্য যেভাবে খাবেন পেঁপের বীজ

SONALISOMOY.COM
এপ্রিল ৬, ২০১৭
news-image

অনলাইন ডেস্ক : পেঁপে অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত সকল রোগের ক্ষেত্রেই উপকারী পেঁপে। তবে শুধু পেঁপের ফলই নয় এর বীজ ও অত্যন্ত উপকারী। বেশিরভাগ মানুষই পেঁপের বীজ ফেলে দেন। কিন্তু এর অতুলনীয় স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা জানলে আপনি আর ফেলে দিতে পারবেন না পেঁপের বীজ।

পেঁপের ছোট ছোট বীজগুলো ভক্ষণ উপযোগী এবং এর আলাদা গন্ধ আছে, যা অনেকটা সরিষা ও কালো গোলমরিচের মিশ্রণের মত। এমনকি গোলমরিচের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় একে। এই বীজে ফেনোলিক এবং ফ্ল্যাভোনয়েড যৌগ, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস থাকে। এছাড়াও এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রভাব আছে। চলুন তাহলে জেনে নিই পেঁপের বীজ খাওয়ার উপায় এবং এর উপকারিতার বিষয়ে।

যেভাবে খাবেন পেঁপের বীজ :

বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় পেঁপের বীজ যেমন-  কাঁচা – সবচেয়ে সহজ উপায়টি হচ্ছে পেঁপে ফলের সাথেই এর বীজও খেয়ে ফেলা। চূর্ণ – পেঁপে থেকে বীজ বের করে নিয়ে খুব ভালো করে পিষে নিয়ে একটি জারে করে রেখে  দিতে পারেন রেফ্রিজারেটরে, যা এক সপ্তাহ ভালো থাকবে। সালাদ, স্মুদি বা স্যুপে ব্যবহার করতে পারেন এই চূর্ণ।

শুষ্ক ও মিহি গুঁড়া – পেঁপের বীজ বের করে সূর্যের আলোতে বা ফুড ডিহাইড্রেটর ব্যবহার করে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়ার পর এগুলোকে ভালো করে চূর্ণ করে নিন। সালাদ, স্যুপ, স্মুদি এবং মাংস রান্নার পূর্বে যোগ করতে পারেন পেঁপের বীজের গুঁড়া।

একদিনে কতটুকু পেঁপের বীজ খাওয়া উচিৎ :

যেহেতু পেঁপের বীজ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানে সমৃদ্ধ তাই অতিরিক্ত খাওয়া উচিৎ নয়। নাহলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ডায়রিয়া হতে পারে।

প্রতিদিন ১ থেকে ২ চামচের বেশি পেঁপের বীজ গ্রহণ করা উচিৎ নয়। প্রথমে অল্প পরিমাণে শুরু করা উচিৎ। তারপর আস্তে আস্তে পরিমাণ বৃদ্ধি করে ২ টেবিল চামচে উন্নিত করা যেতে পারে।

সতর্কতা : পেঁপের বীজ প্রাকৃতিক গর্ভনিরোধক হিসেবে কাজ করে। তাই যদি আপনার কনসিভ করার পরিকল্পনা থাকে তাহলে পেঁপের বীজ খাওয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে হবে। এছাড়াও গর্ভবতী নারী এবং ল্যাটেক্স বা পেপেইন এর অ্যালার্জি আছে যাদের তাদের পেঁপে ও পেঁপের বীজ খাওয়া এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ।

পেঁপের বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতা :

পরিপাকের উন্নতি ঘটায় – যেহেতু এতে উচ্চমাত্রায় হজম উপযোগী এনজাইম থাকে তাই পেঁপের বীজ প্রোটিন ফাইবারকে ভাঙ্গতে এবং হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এছাড়াও অন্ত্রের এসিডিক পরিবেশকেও স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে পেঁপের বীজ।

অন্ত্রের পরজীবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে – পেঁপের বীজে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে যা অন্ত্রকে পরজীবী মুক্ত হতে সাহায্য করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে – পেঁপের বীজের ফেনোলিক এবং ফ্ল্যাভোনয়েড যৌগ উচমাত্রার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান যা টিউমার কোষের বৃদ্ধিকে ধীর করে।

ইনফ্লামেশন কমায় – যেহেতু পেঁপের বীজে শক্তিশালী অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান আছে তাই পেঁপের বীজ গ্রহণ করলে শরীরের ইনফ্লামেশন কমে। আরথ্রাইটিস, জয়েন্টের ব্যথা, গেঁটে বাত এবং অ্যাজমার সাথে সম্পর্কিত ইনফ্লামেশন কমানোর মূল উপাদান পেপেইন এবং কাইমোপেপেইন নামক এনজাইম থাকে পেঁপের বীজে।

যকৃতকে ডিটক্সিফাই হতে সাহায্য করে – পেঁপের বীজ কিডনি ও যকৃতকে ডিটক্সিফাই হতে সাহায্য করে। পেঁপের বীজে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে যা লিভার থেকে পরিপাকের বোঝা কমায়।

এ জাতীয় আরও খবর