রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

বাগমারায় মাতাল অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যানের দেহরক্ষী গ্রেপ্তার

SONALISOMOY.COM
এপ্রিল ১১, ২০১৭
news-image

বাগমারা প্রতিনিধি:
মাতাল অবস্থায় রাজশাহীর বাগমারা থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করার অভিযোগে ভবানীগঞ্জ পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দেহরক্ষীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই যুবলীগ নেতার নাম ফেরদৌস আলী (৪২)। তিনি উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি ও পৌরসভার দানগাছি গ্রামের শের আলীর ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে এক কলেজ শিক্ষককে মারধর, চাঁদার দাবিতে আ.লীগের নেতাকে হুমকী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে।

বাগমারা থানার পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে যুবলীগের নেতা ফেরদৌস আলী চুরির ঘটনায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে থানায় পাঠান। থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা চুরির ঘটনায় অভিযোগের পরিবর্তে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে ওই ব্যক্তি পুলিশের পরামর্শ দেওয়ার বিষয় মোবাইল ফোনে যুবলীগের ওই নেতাকে জানান। এর কিছুক্ষণ পর ফেরদৌস আলী থানার ওসির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। কেন অভিযোগ নেওয়া হবে না এ বিষয়ে ওসির কাছে কৈফিয়ত চান যুবলীগের নেতা। এক পর্যায়ে ওসিকে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করেন এবং হুমকী দেন। পরে থানার সেকে- অফিসারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় একই ধরণের আচরণ করেন।

এই ঘটনার পর পুলিশ তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাত ১০টার দিকে ভবানীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ মোড় থেকে অস্বাভাবিক অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে পেটের ভেতর থেকে মাদকদ্রব্য বের করে।

মাতলামী করার অভিযোগে বাগমারা থানার পুলিশ বাদী হয়ে রাতেই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে। আগ থেকে একটি মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা থাকায় মোট দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি যুবলীগের নেতা কিনা তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসনাতুল রাব্বি যুবলীগের ওই নেতার পেট থেকে নেশাজাতীয় দ্রব্য অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দলের নেতা-কর্মী ও ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, ফেরদৌস আলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুর দেহরক্ষী ছিলেন। তাঁর আস্কারায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে থাকেন। এর আগে ভবানীগঞ্জ কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মতিউর রহমান টুকুর কাছ থেকে চাঁদার দাবিতে হুমকী দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়াও ভবানীগঞ্জের কলেজশিক্ষক আস্তানুর রহমানকে মারধর করা ও বরেন্দ্র প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে হুমকী দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে তিনি বেশি অস্বাভাবিক ও বেপরোয়া হয়ে উঠেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।