বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের চিত্র সংসদে তুলে ধরলেন বাগমারার এমপি এনামুল

SONALISOMOY.COM
জানুয়ারি ১৬, ২০১৮
news-image

সংসদ প্রতিবেদক
রাজশাহী-৪(বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে ১৯তম অধিবেশনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এর ১৫৭ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বক্তৃতাকালে বলেন, জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জাতির জনকের কন্যা বাংলাদেশকে বিশ্বে উচ্চ আসরে পরিচিতি করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণে দেশের উন্নয়নের চিত্র ফুটে উঠেছে। এনামুল হক বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়াও এ সরকারের মেয়াদে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই বাগমারার শতভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এনামুল হক দেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের দিক উল্লেখ করে বলেছেন, গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া লেগেছে। এখন গ্রামের লোকজন বাড়িতে বসে চাকরির আবেদন, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন ধরণের কাজ করতে পারছে। আইটি সেক্টরে সরকার সফল। এনামুল হক বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর হয়েছে। বর্তমানে দেশের ১২ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে এবং ছয় কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তথ্যসেবা কেন্দ্র ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপন করে প্রত্যন্ত এলাকার লোকজন ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে। তিনি মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার চালু করে গরীব মেয়েদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। নবজাতকদের দুধ কেনার টাকা দেওয়া হচ্ছে প্রকল্পের মাধ্যমে। তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
এনামুল হক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাগমারা ও উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের বিভিন্ন তুলে ধরে বলেছেন, এসরকারের সময়ে ৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। এসব কমিটিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রসূতিসহ স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এনামুল হক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের লোকজনকে জটিল চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ঢাকায় আসতে হয়। মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে লোকজনকে আর ঢাকায় আসতে হবে না।

সাংসদ বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা বাংলা ভাই নামক দানব তৈরি করে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজনকে উল্টো করে ঝুলিয়ে মেরেছে। শুভডাঙ্গার ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানীসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি হত্যার শিকার হয়েছিলেন। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আর কোনো হত্যাযজ্ঞ নেই। কোনো রাজনীতিক হত্যাকা-ও সংঘটিত হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার বাগমারাকে শান্তির জনপদে পরিণত করেছে।

এনামুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে এলাকার বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নের দিক তুলে ধরেছেন।শেখ হাসিনার সরকারের জন্যই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন উন্নয়নের দিক উল্লেখ করে বলেছেন, এখান থেকে প্রতিদিন ১০০ ট্রাক মাছ ও ২০০ ট্রাক সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী করা হয়। তা অর্থনীতি উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রেখেছে।
তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। সাংসদ রাষ্ট্রপতির দীর্ঘ ভাষণকে মাইল ফলক হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, এই বয়সেও তিনি যে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবিদার। তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সংসদ সদস্য শিক্ষা বিভাগের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এ সরকারের আমলে বাগমারায় তিনটি ডিগ্রি কলেজ এবং দুইটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের হার কমেছে।
এনামুল হক কৃষি ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেছেন, এ সময়ে কৃষির ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কৃষিপণ্য উৎপাদন বেড়েছে। দেশের চাহিদা মেটানোর পর বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়েছে।

সাংসদ এনামুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি সংরক্ষণ করার জন্য বাগমারায় অত্যাধুনিক বঙ্গবন্ধুৃ স্মৃতিযাদুঘর কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে, যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যে এ কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। এলাকার তরুণ সমাজ স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ সর্ম্পকে জানতে পারছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠছে তরুণ সমাজ।

এনামূল হক বাগমারা ছাড়াও জেলার উন্নয়নেরও দাবি জানিয়েছেন। বক্তৃতায় তিনি হযরত শাহমখমুদ বিমান বন্দরকে আর্ন্তজাতিক মানের বিমান বন্দরে উন্নীত এবং কার্গোসার্ভিস চালুর দাবি জানান। তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সেতু স্থাপনের ফলে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। স্বতন্ত্র রেল সেত ু স্থাপন করা হলে ব্যবসা বাণিজের আরও প্রসার এবং সুবিধা হবে। এছাড়া উত্তারাঞ্চল কে পৃথক শিল্প নীতি করারও দাবী জানান তিনি ।

এনামূল হক রাজশাহী অঞ্চলকে কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন, হযরত শাহমখমুদ বিমান বন্দরে কার্গো সার্ভিস চালু করা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্য দেশের বাইরে পাঠিয়ে ভালো দাম পাবেন।