মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

মিটার রিডার-ম্যাসেঞ্জারদের চাকরি স্থায়ী করণের উদ্যোগ নেওয়া হবেঃ এনামুল হক এমপি

SONALISOMOY.COM
মার্চ ২, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী-৪(বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ বিভাগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাই মিটার রিডারদের দাবিগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। চাকরিচ্যুত ও হারানোর আশংকায় থাকা মিটার রিডারদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁদের চাকরি হারিয়ে ঘরে বসে থাকতে হবে না। এজন্য সব ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার বাংলাদেশ মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার ঐক্য পরিষদের সদস্যদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এসব কথা বলেছেন।
এনামুল হক আরও বলেন, মিটার রিডারদের যেসব দাবি রয়েছে সেগুলোকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হবে। চাকরিচ্যুত ও চাকরি হারানোর আশংকায় থাকা মিটার রিডারদের চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কাউকে কষ্ট করতে হবে না। তিনি তাদের বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার ও প্রয়োজনীয় জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা দেন। বিকালে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক রাজশাহীর শাহমখদুম বিমান বন্দরে পৌঁছালে মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার ঐক্য পরিষদের সদস্যরা তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন এবং ঊষ্ণ সংবর্ধনা দেন। পরে সাংসদ এনামুল হকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংগঠনের পক্ষে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। চলতি অধিবেশনে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মিটার রিডারদের বিষয়ে সংসদে বক্তব্য দেন। এতে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তাদের চাকরির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়।

স্মারকরলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিসংখ্যান মতে ২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহকের জন্য ১৪ হাজার মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার প্রয়োজন। বর্তমানে কর্মরত আছেন ১০ হাজার। মেয়াদ উত্তীর্ণ মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জারের সংখ্যা ৪ হাজার। চাকরীচ্যূত হয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ দুটি পদে একই সমিতিতে ৯ বছর চাকরী করার পর আবেদনের মাধ্যমে অন্য সমিতিতে ইর্ন্টারভিউ বিহীন নিয়োগ এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সমিতিতে ৫৫ বছর পর্যন্ত চাকরী করার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নিয়ম না মেনেই তাদেরকে চাকরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অভিজ্ঞতা থাকার সত্বেও বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএমগণ নিয়োগ বাণিজ্য করার লক্ষ্যে ৪৯৪তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তকে বাদ দিয়ে দুই পদ একীভূত করে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে জেলা কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছেন। পূর্বের সভা এবং বর্তমান ৫৮২ তম বোর্ড সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত বাতিল করে চাকরীতে পুন:বহালসহ স্থায়ীকরণের দাবি জানান তারা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেষ্টায় দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। বিদ্যুতের সিষ্টেম লস ৩৫ ভাগ থেকে কমিয়ে এনে ১১ ভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। মিটার রিডারদের চাকরী স্থায়ীকরণ না হয়ে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, মিটার রিডারদের নায্য দাবি সংসদে বারবার উপস্থাপন করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে নিরাশ করবেন না। পর্যায়ক্রমে সকল দাবির বাস্তবায়ন করা হবে। মিটার রিডারদের চাকরী স্থায়ীকরণ করা হবে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে বাংলাদেশ মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার ঐক্য পরিষদের আহবায়ক এনামুলহক, ঢাকা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক হোসেন, চট্রগ্রাম বিভাগের সভাপতি মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহ বিভাগের সভাপতি ইনতাজ, রংপুর বিভাগের সভাপতি মোবারক হোসেন সহ ৮০ টি সমিতির মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জারগণ উপস্থিত ছিলেন।