মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮

এখনো বিচার পায়নি রেইন ট্রি হোটেলে ধর্ষিতারা

SONALISOMOY.COM
মে ৭, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের এক বছর পার হলেও মামলার বিচার কাজ শেষ হয়নি। বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছেন বাদীপক্ষ।

গত বছরের ১৩ জুলাই আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত। মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে ইতোমধ্যেই দুই আসামি জামিন পেয়েছেন। মামলার মোট ৪৭ সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ মে এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার দুই নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার কাজ চলছে। তবে সম্প্রতি সরকারের গেজেট অনুসারে অধিক্ষেত্রে পরিবর্তন হওয়ায় আগামীতে মামলাটি ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য স্থানান্তর হবে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এ মামলায় বাদীসহ হোটেলের কর্মচারিদের সাক্ষীগ্রহণ হয়েছে। হোটেলের কর্মচারিরা আদালতে বলেছেন, যে তারা (দুই ছাত্রী ও পাঁচ আসামি) হোটেলের গেস্ট ছিলেন। এ ছাড়া মামলার আসামিরাও আদালতের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ মামলার বিচারের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। মামলার বাদীর (ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন) সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। অপর ভিকটিমের (ধর্ষণের শিকার অপর শিক্ষার্থী) পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা শেষ হলেই সেও আদালতে সাক্ষী দেবে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সরকার গেজেট প্রকাশ করে রাজধানীর থানাগুলোর অধিক্ষেত্রে পরিবর্তন করেছে। সে অনুসারে এ মামলাটির বিচার কার্যক্রম আগামীতে ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলবে। তবে ওই ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত কোনো এজলাস নেই। এমনকি পাবলিক প্রসিকিউটরও পর্যন্ত নিয়োগ দেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১৩ জুলাই আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলায় চার্জ গঠন করেন আদালত। এর আগে তদন্ত শেষে ওই বছরের ৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের পুলিশ পরিদর্শক ইসমত আরা এমি ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে ৪৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রথমে থানা পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে। এমনকি ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন আসামি ও আসামির পরিবার। ঘটনার ৪০ দিন পর ওই দুই ছাত্রী গত বছরের ৬ মে সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে শুধুমাত্র দেহরক্ষী রহমত আলী ছাড়া বাকি সবাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় আসামি সাফাত আহমেদ ছাড়াও তার দুই বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম ও সাদমান সাকিফ কারাগারে রয়েছেন। আর সাফাতের গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী জামিনে আছেন।