রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

পাহাড়ে হরতাল চলছে

SONALISOMOY.COM
মে ৭, ২০১৮
news-image

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) নেতা শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাস চালক সজীবকে গুলি করে হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় হরতাল চলছে।

পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদের ডাকে সোমবার ভোর থেকে ৪৮ ঘণ্টার এ হরতাল শুরু হয়।

হরতালের সমর্থনে সকালে রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি এলাকায় দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় দেখা গেলেও সহিংসতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত ফরাজি সাকিব বলেন, “তিন পার্বত্য জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হচ্ছে। সকাল থেকেই পিকেটাররা মাঠে রয়েছে।”

হরতালের কারণে রাঙামাটি শহর থেকে কোনো বাস বা লঞ্চ ছেড়ে যায়নি; শহরের ভেতরে চলাচলের একমাত্র বাহন অটোরিকশাও বন্ধ ।

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে গত বৃহস্পতিবার বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে উপজেলা পরিষদে নিজের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়।

পরদিন শক্তিমানের শেষকৃত্যে যোগ দিতে খাগড়াছড়ি থেকে রাঙামাটি যাওয়ার পথে বেতছড়ি এলাকায় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও যুব সমিতির (এমএন লারমা) নেতাকর্মীরা হামলার মুখে পড়ে। তাদের মাইক্রোবাসে গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়, আহত হন আরও আটজন।

ওই ঘটনায় নিহতরা হলেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা, জনসংহতি সমিতির সহযোগী সংগঠন যুব সমিতির (এমএন লারমা) মহালছড়ি শাখার সভাপতি সুজন চাকমা, সদস্য তনয় চাকমা, যুব সমিতির (এমএন লারমা) সদস্য রবিন চাকমা ও গাড়ির চালক সজীব।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলার তিন বাঙালি কাঠ ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দীন, মো.বাহার মিয়া ও মহরম আলী মহালছড়ির মাইসছড়িতে গিয়ে নিখোঁজ হন।এখন পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।

সজীবের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার; জেএসএস-ইউপিডিএফ সহ পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং তিন বাঙালি ব্যবসায়ীর মুক্তির দাবিতে সোমবার ভোর থেকে ৪৮ ঘণ্টার এই হরতাল করছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদ।

এদিকে হরতালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকে জেলায় কোনো গোলযোগ ঘটেনি বলে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান।