বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮

আজ খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশের আশায় বিএনপি

SONALISOMOY.COM
মে ৮, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া আজ আপিল বিভাগ থেকে মুক্তির আদেশ পাবেন বলে আশা করছে বিএনপি।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদের বিশ্বাস, ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সর্বোচ্চ আদালত তাকে জামিন দেবে।

তবে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন হলেও অন্য মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার মুক্তি বিলম্বিত করার কৌশলও সরকার নিতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে বিএনপি নেতাদের মধ্যে।

দুদকের মামলাটিকে পাঁচ বছরের দণ্ডের রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন। তাকে রাখা হয়েছে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পরিত্যাক্ত কারাগারে।

পুরনো এই কারাগারে একমাত্র বন্দি ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল এক্স রে করানোর জন্য একবার বের করে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়েছিল।

খালেদার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে বিএনপি। দলটির নেতারা আশা করছেন, এসব বিবেচনায় হাই কোর্টের আদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের আদেশ হবে।

ঢাকা মহানগর জজ আদালতের দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে খালেদা আপিল করলে হাই কোর্ট গত ১২ মার্চ তাকে জামিন দিয়েছিল। কিন্তু সেই আদেশের বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে গেলে তাতে আসে স্থগিতাদেশ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ ১৯ মার্চ দেওয়া এক আদেশে জামিন প্রশ্নে আপিল শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক এবং আসামি পক্ষকে সার সংক্ষেপ জমা দিতে বলে। সেই সঙ্গে ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয় হাই কোর্টের জামিন আদেশ।

আপিল বিভাগের মঙ্গলবারের (৮ মে) কার্যতালিকায় দেখা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার ফৌজদারি মামলাটি তালিকার নয় নম্বর ক্রমে রয়েছে।

তার আগের দিন সোমবার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম তাদের নেত্রীর মুক্তি দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

এই কর্মসূচিতে মওদুদ বলেন, “এ মামলার সমস্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এবং বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আগামীকাল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তির আদেশ পাবেন।”

অন্যদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “কালকে যদি সুপ্রিম কোর্ট তার জামিন কনফার্মও করে, তাহলে অন্য মামলায় শোন অ্যারেস্টের কারণে তিনি মুক্ত হতে পারবেন না।

“সরকার নানা কৌশলে তাকে জেলে আটকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারে। একটা শোন অ্যারেস্টে আমরা জামিন করালাম, আরেকটা শোন অ্যারেস্ট দেখায়া দিল। আরেকটাতে জামিন করালাম, আরেকটাতে দেখায় দিল।”

সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার এক মামলায় হুকুমের আসামি হিসেবে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি জানিয়ে আসা বিএনপি তাদের একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে খালেদার মুক্তির বিষয়টিও তুলেছে।

তাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গা না করার মধ্যে এখনকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে সরে কঠোর আন্দোলনের হুমকিও এখন দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

সুপ্রিম কোর্টের কর্মসূচিতে মওদুদ বলেন, “নিয়মতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা এতদিন দিন চেষ্টা করেছি। দেশের মানুষ এখন আর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেখতে চায় না। মানুষ সরকার পরিবর্তন দেখতে চায়।

“আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের ভোটের অধিকার এবং ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনা হবে।”

প্রেস ক্লাবের আলোচনায় নজরুলও বলেন, “উনার (খালেদা জিয়া) ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই আমরা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। এর অর্থ এই নয় যে, সরকার যা খুশি তাই করবে আর আমরা সব সহ্য করব।

“আমাদের তৃণমূল থেকে চাপ আসছে। আজকে এই মিটিংয়ে নেতাদের বক্তৃতায় আমরা দেখলাম, অডিয়েন্স খুব খুশি যে, রাজপথে নামেন, শক্ত আন্দোলন করেন। এটা একটা গণদাবির মতো হয়ে যাচ্ছে।”

বন্দিজীবন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে বলেও দাবি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ অবস্থায় জেলে গেছেন। এখন তিনি জেলে থেকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ওইদিন (গত ১৯ মার্চ) আপিল বিভাগ যদি তাকে জামিন দিতেন, তাহলে তিনি আজ অসুস্থ হতেন না।”

আজ জামিনের আশা রেখে জয়নাল বলেন, “বেগম জিয়াকে জামিন দিয়ে প্রমাণ করে দেবেন আদালত স্বাধীন। অন্যত্থায় আমরা বুঝব, সিনহা বাবুকে (পদত্যাগী বিচারপতি এস কে সিনহা) সরকার যেভাবে বিদায় করেছে আপনারা (আপিল বিভাগের বিচারপতিরা) তাতে ভীত-সন্ত্রস্ত।”

অবস্থান কর্মসূচিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও বক্তব্য রাখেন গরীব-এ-নেওয়াজ, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা, গোলাম রহমান, বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল, আবেদ রাজা, মনির হোসেন, শেখ অহিদুজ্জামান।

বক্তারা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের জন্য সরকারকেই দায়ী করেন।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বরাবরই বলে আসছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে দণ্ড দিয়েছে আদালত, জামিনের বিষয়ে আদেশের এখতিয়ার সম্পূর্ণ আদালতের। এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার সুযোগ নেই।

এ জাতীয় আরও খবর